দীর্ঘ জটিলতা, তপশিল পেছানো এবং নানা বিতর্কের পর অবশেষে অনুষ্ঠিত হলো শতবর্ষী ব্যবসায়ী সংগঠন দ্য চিটাগং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির দ্বিবার্ষিক নির্বাচন। নির্বাচনে মোহাম্মদ আমিরুল হকের নেতৃত্বাধীন ‘ইউনাইটেড বিজনেস ফোরাম’ নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে।
শনিবার (২৩ মে) নগরীর আগ্রাবাদের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোট গণনা শেষে ফল ঘোষণা করেন নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান মনোয়ারা বেগম।
নির্বাচনে ২৪ পরিচালক পদের মধ্যে ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন ১৮ জন এবং বাকি ৬ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। সব মিলিয়ে অধিকাংশ পদেই জয় পেয়েছে ইউনাইটেড বিজনেস ফোরাম প্যানেল।
এক যুগ পর চট্টগ্রাম চেম্বারে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে পরিচালক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। ২০১৩ সালের পর এই প্রথম ভোটের মাধ্যমে পরিচালনা পর্ষদ গঠিত হচ্ছে। এর আগে টানা কয়েকটি কমিটি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিল।
চেম্বার সূত্রে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৬ হাজার ৭৮০ জন। এর মধ্যে ভোট দিয়েছেন ২ হাজার ৭২৫ জন, যা মোট ভোটারের প্রায় ৪০ শতাংশ।
সাধারণ শ্রেণিতে ভোটার ছিলেন ৪ হাজার ১ জন। এ শ্রেণিতে ভোট পড়েছে ১ হাজার ৮৪৩টি, যা প্রায় ৪৬ শতাংশ। অন্যদিকে সহযোগী শ্রেণিতে ভোটার ছিলেন ২ হাজার ৭৬৪ জন। এ শ্রেণিতে ভোট পড়েছে ৮৮২টি, যা প্রায় ৩২ শতাংশ।
নির্বাচনে মোট ১৭টি বুথে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। একজন সাধারণ শ্রেণির ভোটার ১২টি এবং সহযোগী শ্রেণির ভোটার ৬টি করে ভোট প্রদান করেন।
চেম্বারের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সাধারণ শ্রেণি থেকে ১২ জন, সহযোগী শ্রেণি থেকে ৬ জন এবং ট্রেড গ্রুপ ও টাউন অ্যাসোসিয়েশন শ্রেণি থেকে ৩ জন করে মোট ৬ জন পরিচালক নির্বাচিত হন। এভাবে ২৪ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদ গঠিত হয়। পরে পরিচালকদের ভোটে সভাপতি, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ও সহসভাপতি নির্বাচিত হবেন।
চেম্বার সূত্র জানিয়েছে, আগামী সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় প্রেসিডিয়াম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ওই নির্বাচনে সভাপতি, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ও সহসভাপতি পদে ভোট দেবেন নবনির্বাচিত পরিচালকেরা।
সাধারণ শ্রেণিতে নির্বাচিত পরিচালকরা
কামাল মোস্তফা চৌধুরী (১,৪০৫ ভোট), এএসএম ইসমাইল খান (১,৩৭৪), আবু হায়দার চৌধুরী (১,৩৬৪), মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন চৌধুরী (১,৩৫২), এমডি নাসির উদ্দিন চৌধুরী (১,৩২১), আসাদ ইফতেখার (১,৩০৬), আমানউল্লাহ আল সগীর (১,২৭৭), মো. গোলাম সরওয়ার (১,২৫৯), মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান (১,২৫৯), মোহাম্মদ শফিউল আলম (১,২৪৯), মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম চৌধুরী (১,২১১) এবং শহিদুল আলম (১,২০৯ ভোট)।
সহযোগী শ্রেণিতে নির্বাচিত পরিচালকরা
মো. জাহিদুল হাসান (৬৮৭ ভোট), মো. নুরুল ইসলাম (৬৬১), মো. সেলিম নুর (৬৪৬), সরোয়ার আলম খান (৬৪১), মোহাম্মদ মশিউল আলম (৬৩২) এবং মোহাম্মদ আলাউদ্দিন আল আজাদ (৬১৮ ভোট)।
ট্রেড গ্রুপ শ্রেণিতে মোহাম্মদ আখতার পারভেজ, মোহাম্মদ আমিরুল হক এবং এস এম সাইফুল আলম বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন। অন্যদিকে টাউন অ্যাসোসিয়েশন শ্রেণিতে আফসার হাসান চৌধুরী, মোহাম্মদ মনির উদ্দিন এবং মোহাম্মদ সাজ্জাদ উন নবাব বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন।
ইউনাইটেড বিজনেস ফোরামের দলনেতা ও নবনির্বাচিত পরিচালক মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, ‘আমরা চেয়েছি ব্যবসায়ীরা যেন ভোটের মাধ্যমে তাঁদের নেতৃত্ব নির্বাচন করতে পারেন। অবশেষে সেটিই হয়েছে।’
এবারের নির্বাচনে দুটি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। একটি ছিল এস এম নুরুল হকের নেতৃত্বাধীন ‘সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ’ এবং অন্যটি আমিরুল হকের নেতৃত্বাধীন ‘ইউনাইটেড বিজনেস ফোরাম’। তবে ভোটের আগের দিন সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিলেও তাদের প্রার্থীদের নাম ব্যালটে বহাল ছিল।


