পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় পর্যটকদের একাংশের অসচেতন ও আচরণের কারণে স্থানীয় জনগণের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। ফলে বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির কয়েকটি এলাকায় পর্যটক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং জনপ্রিয় কয়েকটি ঝর্ণা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে স্থানীয় গোষ্ঠীদের গ্রুপ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে সমতল অঞ্চল থেকে আগত কিছু পর্যটকের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের ফলমূল চুরি, জুমক্ষেতে প্রবেশ করে অনুমতি ছাড়া ফসল সংগ্রহ, পরিবেশ দূষণ এবং পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি ও জীবনাচার নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া ঝর্ণা ও প্রাকৃতিক জলাধারে স্থানীয়দের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা উপেক্ষা করে ছবি ও ভিডিও ধারণের ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এসব ঘটনার প্রতিবাদে বান্দরবান জেলার রোয়াংছড়ি উপজেলার ম্রংওয়া পাড়া, বেংছড়ি পাড়া, থংক্ষ্যং পাড়া, মুনথার পাড়া, ত্রিপুরা পাড়া ও খাব্রে পাড়ার বাসিন্দারা সম্মিলিতভাবে বাইরের পর্যটকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছেন। এলাকাজুড়ে টাঙানো সাইনবোর্ডে পরিবেশ, প্রাণ-প্রকৃতি এবং আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি ও সামাজিক মর্যাদা রক্ষার স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার উত্তর দেবতাছড়ি গ্রামের বাসিন্দারাও পর্যটকদের বেপরোয়া আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে তাদের এলাকায় পর্যটক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক পর্যটক মাদক সেবন, উচ্চস্বরে সাউন্ড বক্স বাজানো, চিৎকার-চেঁচামেচি এবং আপত্তিকর কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন। এর ফলে গ্রামবাসী ও পর্যটকদের মধ্যে একাধিকবার উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
এ প্রেক্ষাপটে উত্তর দেবতাছড়ি এলাকার ঝর্ণা ও সংশ্লিষ্ট পর্যটন স্পটগুলোতে গত ৫ জুন থেকে সকল প্রকার পর্যটকের প্রবেশ বন্ধ ঘোষণা করেছে স্থানীয় গোষ্ঠীদের একটি গ্রুপ।

এদিকে খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙ্গা উপজেলার বড়নাল ইউনিয়নের তৈলাফাং তোয়ারি মাইরাং ঝর্ণাও অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। গত ৬ জুন স্থানীয় হেডম্যান, যুবসমাজ ও ছাত্রসমাজ যৌথভাবে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক পর্যটক ঝর্ণা এলাকায় ময়লা-আবর্জনা ফেলে পরিবেশ দূষণ করছেন এবং কিছু ব্যক্তি মাদক সেবন ও মদ্যপানের মতো কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, পর্যটকদের একাংশের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ শুধু পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদের ক্ষতিই করছে না, বরং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সামাজিক মূল্যবোধ ও জীবনযাত্রার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, দায়িত্বশীল পর্যটনের অভাব অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে পার্বত্য অঞ্চলের আরও অনেক পর্যটনকেন্দ্র সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাই পরিবেশ, স্থানীয় সংস্কৃতি ও জনগণের প্রতি সম্মান দেখিয়ে ভ্রমণের ওপর গুরুত্বারোপ করছেন তারা।


