মালয়েশিয়ায় আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের দ্রুত ও পর্যায়ক্রমে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর শর্তে দেশটির প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইংকে আনুষ্ঠানিক সফরের আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) প্রচারিত এক পডকাস্টে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান আনোয়ার ইব্রাহিম। মালয়েশিয়ার সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ স্ট্রেইটস টাইমস এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও বাণিজ্য জোরদারের পাশাপাশি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনকে আলোচনার প্রধান শর্ত হিসেবে রাখা হবে। মালয়েশিয়ায় থাকা প্রায় দুই লাখ রোহিঙ্গাকে একসঙ্গে ফেরত নেওয়া সম্ভব না হলে পর্যায়ক্রমে তাদের ফেরত পাঠানোর প্রস্তাব দেওয়া হবে।
তিনি জানান, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে এ সিদ্ধান্তের কথা তিনি মন্ত্রিসভা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছেন।
পডকাস্টে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা বাড়াতে তারা আগ্রহী। তবে এর বিনিময়ে মিয়ানমারকে দেশটিতে থাকা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে হবে। একসঙ্গে সবাইকে ফেরত নেওয়া সম্ভব না হলে ধাপে ধাপে প্রত্যাবাসন করতে হবে।
আনোয়ার জানান, আলোচনার মাধ্যমে মিয়ানমার প্রাথমিকভাবে ৫ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে সম্মত হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ধাপে ১ হাজার ৫০০ জনকে আগামী এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে মিয়ানমারে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
মালয়েশিয়ায় রোহিঙ্গাদের গ্রেপ্তার করে আটক কেন্দ্রে রাখার দাবিরও বিরোধিতা করেন আনোয়ার। তার মতে, বিপুলসংখ্যক শরণার্থীকে আটক করে রাখলে দেশের অর্থনীতি ও নিরাপত্তার ওপর আরও চাপ তৈরি হবে।
স্থানীয় নাগরিকদের কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথাও স্বীকার করেন তিনি। তবে শুধু ক্ষোভ প্রকাশ করে এ সংকটের সমাধান সম্ভব নয় উল্লেখ করে মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে চুক্তিতে পৌঁছানোর ওপর গুরুত্ব দেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী।
আনোয়ার আরও বলেন, অতীত সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের কারণে মালয়েশিয়ায় রোহিঙ্গা সংকট তৈরি হলেও বর্তমান প্রশাসনকে এখন কূটনৈতিক উপায়ে এর সমাধান খুঁজতে হচ্ছে।


