শান্তি প্রতিষ্ঠায় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে আলোচনার ক্ষেত্রে সমঝোতার ইঙ্গিত দিয়েছেন মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং । তিনি বলেছেন, শান্তির জন্য ‘যা সম্ভব, শুধু সেটিই দাবি করতে হবে’ এবং ‘যা সম্ভব নয়, তা নিয়ে সমঝোতা করতে হবে’।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। এমন সময় তার এই বক্তব্য এলো, যখন রাখাইন, কাচিন ও কারেন রাজ্যে প্রতিরোধ বাহিনীর কাছ থেকে নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা পুনর্দখলের চেষ্টায় সরকারি বাহিনী লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে এবং হতাহতের মুখে পড়ছে। খবর দ্য ইরাওয়ার্দীর।
মিন অং হ্লাইং এর আগেও জাতিগত সশস্ত্র সংগঠনগুলোকে বাস্তবসম্মত দাবি উত্থাপনের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে এবার আলোচনায় আগ্রহী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সমঝোতার প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি জোর দিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
মন্ত্রিসভার বৈঠকে ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ার উন্নয়নের উদাহরণও তুলে ধরেন মিন অং হ্লাইং। তার দাবি, স্থিতিশীলতা ও শান্তির মাধ্যমেই দেশ দুটি উন্নতি অর্জন করেছে। মিয়ানমারের উন্নয়নের জন্যও শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এর আগে, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর উদ্যোগে তথাকথিত ‘শান্তি আলোচনা’ ১০০ দিনের সময়সীমার মধ্যে আয়োজন করা হয়েছিল। সেই সময়সীমা ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে সক্রিয়ভাবে লড়াইরত বেশ কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠী ওই উদ্যোগ প্রত্যাখ্যান করে।
ফলে ওই আলোচনায় মূলত এমন কিছু সংগঠন অংশ নেয়, যারা ইতোমধ্যে সশস্ত্র লড়াই থেকে সরে গেছে অথবা সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মিয়ানমারে ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে দেশটির সামরিক বাহিনী ও বিভিন্ন জাতিগত সশস্ত্র সংগঠন এবং প্রতিরোধ বাহিনীর মধ্যে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে সরকারি বাহিনী নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালালেও বিভিন্ন এলাকায় তাদের সঙ্গে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সংঘর্ষ চলছে।


