ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ৭৬তম জন্মদিন উপলক্ষে দেশজুড়ে প্রদীপ জ্বালানোর কর্মসূচি নিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। ‘আশীর্বাদ কা দিয়া’ নামে এই কর্মসূচিতে আজ বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে নিজ নিজ ঘরে প্রদীপ জ্বালানোর আহ্বান জানিয়েছেন বিজেপির সভাপতি নিতিন নবীন।

প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘায়ু, সুস্বাস্থ্য ও ধারাবাহিক সাফল্য কামনায় এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজেপি। এক ভিডিও বার্তায় নিতিন নবীন ২০১৪ সাল থেকে মোদির নেতৃত্বে ভারতের বিভিন্ন পরিবর্তনের কথা তুলে ধরে ২০৪৭ সালের মধ্যে দেশকে একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করার লক্ষ্যের কথাও উল্লেখ করেন।

মোদির জন্মদিন উপলক্ষে মাসব্যাপী ‘সেবা সংকল্প অভিযান’ও ঘোষণা করেছে বিজেপি। ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত চলা এই কর্মসূচিতে জনসংযোগ বাড়ানো, জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং যুবসমাজকে বিভিন্ন উদ্যোগে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বিজেপির পক্ষ থেকে মোদির গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হয়ে ওঠার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন দিকও তুলে ধরা হচ্ছে। মহামারি মোকাবিলা, নকশালবাদ ও সন্ত্রাসবাদ দমন এবং নারী ও যুবসমাজের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও প্রচার করা হচ্ছে।

এদিকে মোদির জন্মদিন উপলক্ষে তার নির্বাচনী এলাকা উত্তর প্রদেশের বারানসিতে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় গণতান্ত্রিক জোটের (এনডিএ) কয়েকজন শীর্ষ নেতা উপস্থিত থাকছেন। অন্ধ্র প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু, মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে।

এছাড়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সঙ্গে গুজরাটে বাইক র‌্যালিতেও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে বিহারের লোক জনশক্তি পার্টির নেতা চিরাগ পাসোয়ান ও আপনা দলের অনুপ্রিয়া প্যাটেলের। তবে মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমা এই আয়োজনে থাকছেন না বলে জানা গেছে।

এদিকে বিজেপির প্রদীপ জ্বালানোর কর্মসূচির কঠোর সমালোচনা করেছে কংগ্রেস। ঝাড়খন্ড প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সাধারণ সম্পাদক অলোক কুমার দুবে অভিযোগ করেছেন, সাধারণ মানুষের বাস্তব সমস্যা থেকে দৃষ্টি সরাতেই এ ধরনের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

বিহারের বন্যা পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, যেখানে রান্নাঘরের তেলের তীব্র সংকট এবং মানুষ জীবন বাঁচানোর জন্য লড়ছে, সেখানে প্রদীপ জ্বালিয়ে তেল নষ্ট না করে তা দিয়ে পরিবারের আহার সংস্থান করাই সাধারণ মানুষের প্রথম অগ্রাধিকার হওয়া উচিত ছিল।