রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মি (এএ) নিয়ন্ত্রিত এলাকায় মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর নৌ ও আকাশ হামলা জোরদার হয়েছে। এ সময় মৎস্যজীবীদের মারধর ও আটকের পাশাপাশি মাছ ধরার নৌকা লুট করে পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে মি্যানমার নাও জানিয়েছে, গত ১৪ সেপ্টেম্বর সিনটেকমাও গ্রামের নয়জন রোহিঙ্গা মৎস্যজীবী দুটি নৌকায় করে সাগরে মাছ ধরতে যান। ১৬ সেপ্টেম্বর সিত্তের পূর্ব দিকে পাওকতাও শহরের উপকূলীয় এলাকায় সামরিক বাহিনীর দুটি যুদ্ধজাহাজ তাদের ধাওয়া করে।
অভিযোগ রয়েছে, সামরিক বাহিনীর সদস্যরা মৎস্যজীবীদের নৌকা দুটির মালামাল লুট করে পরে সেগুলোতে আগুন ধরিয়ে দেন। নয়জন মৎস্যজীবীকে দড়ি দিয়ে বেঁধে মারধর ও নির্যাতনের পর কিয়াউকফিউ নৌঘাঁটিতে নিয়ে যাওয়া হয়। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ভোরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হলে তারা নিজ গ্রামে ফিরে আসেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
পাওকতাও বর্তমানে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকার মধ্যে রয়েছে। সিত্তেকে কেন্দ্র করে সামরিক বাহিনী রাখাইনের বিভিন্ন অঞ্চলে পুনরায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে।
রাথেডংয়ের মেয়ু নদীসংলগ্ন গ্রামগুলোতেও সামরিক বাহিনীর ভারী কামানের গোলাবর্ষণের খবর পাওয়া গেছে। এতে আংগুমও ও কোনটানসহ আশপাশের গ্রামের বহু বাসিন্দা বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
এদিকে পুনাক্যুন অঞ্চলে স্থলযুদ্ধের পাশাপাশি বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে। ১৭ সেপ্টেম্বর আরাকান আর্মি নিয়ন্ত্রিত ম্রাউক-ইউ শহরেও সামরিক বাহিনীর যুদ্ধবিমান থেকে ব্যাপক বোমাবর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।
আরাকান আর্মি বর্তমানে সিত্তে ও মংডুর কিছু অংশ ছাড়া রাখাইন রাজ্যের অধিকাংশ প্রধান শহরের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। পাশাপাশি চিন রাজ্যের পালেতওয়া এলাকাতেও গোষ্ঠীটির নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।
সামরিক বাহিনীর ভারী কামান, ড্রোন ও বিমান হামলার প্রেক্ষাপটে বেসামরিক মানুষকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে আরাকান আর্মি প্রশাসন।
তবে হামলা, নির্যাতন ও নৌকা পুড়িয়ে দেওয়ার এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।


