মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নগদ অর্থের সংকট তীব্র হওয়ায় সাম্প্রতিক মাসগুলোতে টাকা উত্তোলনের খরচ ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। বর্তমানে টাকা উত্তোলনের ক্ষেত্রে ৫ শতাংশের বেশি থেকে সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ পর্যন্ত সেবা মূল্য দিতে হচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
প্রতিদিন এ হার কিছুটা ওঠানামা করলেও বর্তমানে সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ পর্যন্ত দিতে হচ্ছে বলে ওয়েস্টার্ন নিউজকে জানিয়েছেন ম্রাউক-উ শহরের এক অর্থ স্থানান্তর ও নগদ টাকা উত্তোলন সেবাদাতা।
তিনি বলেন, ‘প্রতিদিনের হার এক থাকে না। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ৬ শতাংশের নিচে নামছে না। কারণ নগদ অর্থের সংকট রয়েছে। অর্থ স্থানান্তরের পরিমাণ কমে যাওয়াও নগদ সংকটের অন্যতম কারণ।’
স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, ২০২৬ সালের বর্ষা মৌসুমে রাখাইনে নগদ অর্থের সংকট আরও তীব্র হয়েছে। এর আগে কয়েক মাসে টাকা উত্তোলনের খরচ ১ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ প্রায় ৩ শতাংশের মধ্যে ছিল।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, রাখাইনে পণ্য পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ সাওকুন রুট মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী বন্ধ করে দেওয়ার পর বাণিজ্য ও স্থানীয় অর্থের প্রবাহ কমে গেছে। এর প্রভাব পড়েছে নগদ অর্থের সরবরাহেও।
ফলে একদিকে নগদ অর্থের সংকট বাড়ছে, অন্যদিকে টাকা উত্তোলনের খরচও ক্রমাগত বাড়ছে।
পোননাগ্যুন টাউনশিপের এক বাসিন্দা জানান, নগদ টাকা তুলতে গিয়ে শুধু সেবামূল্যই নয়, যাতায়াতের খরচও বহন করতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘এক লাখ কিয়াত তুলতে ৬ হাজার কিয়াত দিতে হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে খরচ বেড়ে যাওয়ায় টাকা তুলতে বেশ ভোগান্তি হচ্ছে। যে পরিমাণ টাকা পাঠানো হয়, পুরোটা পাওয়া যায় না। আবার টাকা তুলতে যাতায়াতের খরচও আছে। এভাবেই কোনো কাজে ব্যবহার করার আগেই টাকা শেষ হয়ে যাচ্ছে।’
২০২৩ সাল থেকে পরিবহন অবরোধ ও সংঘাতের কারণে রাখাইনে ব্যাংকিং কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হতে পারছে না। ফলে অর্থ স্থানান্তর ও নগদ টাকা উত্তোলন সেবার মাধ্যমেই স্থানীয় অর্থের লেনদেন অনেকাংশে পরিচালিত হচ্ছে।
ব্যাংকিং ব্যবস্থা স্বাভাবিকভাবে কার্যকর না থাকায় নগদ অর্থের প্রাপ্যতা কমেছে। একই সঙ্গে অর্থ স্থানান্তরের প্রবাহ কমে যাওয়ায় নগদ সংকট আরও তীব্র হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে নগদ অর্থের চাহিদা ও সরবরাহের ব্যবধান বাড়তে থাকায় টাকা উত্তোলনের খরচও বেড়েছে। বর্তমানে এই খরচ সর্বোচ্চ ৬ শতাংশে পৌঁছেছে বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে।


