রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের বিরুদ্ধে নিয়োগে জালিয়াতি, কোটা বৈষম্য, প্রশ্নফাঁস, পরীক্ষার ফল প্রকাশে অনিয়ম ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ এনে জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ সম্পূর্ণ শাটডাউন করেছে কোটা বিরোধী ঐক্যজোট, সাধারণ শিক্ষার্থী এবং সচেতন নাগরিক কমিটি। সোমবার (২৪ নভেম্বর) সকালে পরিষদের মূল ফটক বন্ধ করে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ সমাবেশ করেন।
এর আগে শনিবার রাতে আন্দোলনকারীরা ঘোষণা দেন যে সোমবার থেকে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ অনির্দিষ্টকালের জন্য শাটডাউনের আওতাভুক্ত থাকবে। তাদের দাবি, নভেম্বর মাসের মধ্যেই শিক্ষক নিয়োগ সম্পন্ন করতে হবে; অন্যথায় পরিষদের চেয়ারম্যানসহ সব সদস্যকে বাধ্যতামূলকভাবে পদত্যাগ করতে হবে। গত বৃহস্পতিবার একই দাবিতে ৩৬ ঘণ্টার হরতাল ঘোষণা করা হলেও শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণার পর তা প্রত্যাহার করা হয়।
নিয়োগ প্রক্রিয়াকে ঘিরে উত্তেজনা আরও বাড়ে যখন শনিবার দুপুরে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কাজল তালুকদার বৈঠক শেষে জানান, শিক্ষক নিয়োগ রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন অনুযায়ী হবে, নাকি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী হবে- তা জানতে মন্ত্রণালয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে পত্র পাঠানো হয়েছে। কিন্তু পরে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত, নতুন তারিখ ঘোষণা এবং পুনরায় স্থগিত এসব সিদ্ধান্ত জেলা পরিষদ এককভাবে নিয়েছে। এতে পরিষদের প্রশাসনিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং বিষয়টি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে।
মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. রেজুয়ান খান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর সরকারের ঘোষিত নতুন কোটা পদ্ধতি পার্বত্য জেলাগুলোতে একইভাবে প্রযোজ্য হবে কি না সেই বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে মতামত নেওয়ার জন্য পত্র পাঠানো হয়েছে। কোটা-সংক্রান্ত নীতিমালা এখনো চূড়ান্ত না হওয়ায় রাঙ্গামাটির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
সোমবার সকালে জেলা পরিষদের ফটকে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে সদস্য মো. জনি, মো. ইমরান রুবেল, ইফতেখার রুবেল ও রাকিব হাসানসহ অন্য নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।
আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের আওতাধীন প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্যমূলক কোটা কাঠামো প্রয়োগ করা হচ্ছে, যার ফলে মেধাবী শিক্ষার্থীরা বারবার বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন। তারা দাবি জানান- জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ৯৩ শতাংশ মেধা ও ৭ শতাংশ কোটা নিশ্চিত করে নিয়োগ দিতে হবে। পাশাপাশি প্রশ্নফাঁসসহ নানা অভিযোগের কারণে প্রশ্নপত্র কেন্দ্রীয়ভাবে তৈরি করে জেলা প্রশাসকের তত্ত্বাবধানে সরকারি ট্রেজারিতে সংরক্ষণ এবং উত্তরপত্র মূল্যায়নও জেলা প্রশাসনকে দিয়ে করানোর দাবি জানানো হয়।
এছাড়া নিয়োগ পরীক্ষার পূর্বে পৃথক উপজাতীয় কোটা প্রজ্ঞাপন প্রকাশ, নিয়োগ পরবর্তী সময়ে নির্বাচিতদের রোল নম্বর, নাম ও ঠিকানা প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা এবং ফলাফলে বাঙালি ও তফসিলভুক্ত উপজাতীয় জনগোষ্ঠীর তালিকা আলাদাভাবে প্রকাশের দাবিও তারা উত্থাপন করেন। উচ্চ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ১৯৮৯ সালের জেলা পরিষদ আইনে ‘উপজাতীয় অগ্রাধিকার নীতি’ অনুসরণ করা হচ্ছে কি না সে বিষয়েও পরিষ্কার ব্যাখ্যা দাবি করেন আন্দোলনকারীরা।
নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও সাম্যতা প্রতিষ্ঠার দাবিতে রাঙ্গামাটিতে আন্দোলন আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। আন্দোলনকারীদের হুঁশিয়ারি- দাবি পূরণ না হলে শাটডাউন কর্মসূচি চলবে এবং জেলা পরিষদ নেতৃত্বকে পদত্যাগের মুখোমুখি হতে হবে।

