শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে উদযাপন নিশ্চিত করতে খাগড়াছড়িতে নিরাপত্তা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। জেলার ২৮টি পূজামণ্ডপে ৯ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-৭-এর টহল, গোয়েন্দা নজরদারি, রেকি ও মোবাইল পেট্রোল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) খাগড়াছড়ি সেক্টর কমান্ডার কর্নেল ইফতেখারুল আলম বেগ এবং খাগড়াছড়ি ব্যাটালিয়ন (৩২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. শাহারিয়ার রাজীব খাগড়াছড়ি পৌরসভা এলাকার দুটি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি ও পূজা উদযাপন কমিটির প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করে সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন।
এদিকে শনিবার (১৭ অক্টোবর) খাগড়াছড়ি জেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করে এসআরবি-৭। পরে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসআরবি-৭-এর সিপিসি-১, ফেনী ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার মো. মিজানুর রহমান বলেন, পাহাড়ের শান্তি-সম্প্রীতি ও সব জাতিগোষ্ঠীর মেলবন্ধনের মধ্য দিয়ে নির্বিঘ্নে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপনে তারা পাশে আছেন।

তিনি বলেন, শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রেখে পূজামণ্ডপ ও সংশ্লিষ্ট এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসআরবি-৭ প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’—এই অসাম্প্রদায়িক নীতিকে সামনে রেখে ধর্মীয় সম্প্রীতি অক্ষুণ্ন রাখতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে।
বিজিবি সূত্র জানায়, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি গুজব, অপতথ্য ও সাম্প্রদায়িক উসকানি প্রতিরোধেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে বিজিবির খাগড়াছড়ি সেক্টর কমান্ডার গুজবে কান না দেওয়া, যাচাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রচার না করা এবং সন্দেহজনক কোনো ঘটনা নজরে এলে দ্রুত নিকটস্থ বিজিবি ক্যাম্প বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানান। তিনি দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগের পাশাপাশি জনসচেতনতা ও সবার সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিজিবি ও এসআরবি-৭ জানায়, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রেখে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যাতে নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে নিরাপত্তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।


