ভূরাজনীতিতে হারিয়ে যাওয়া আস্থা ও সদিচ্ছা পুনর্গঠনে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের নতুন সভাপতি খলিলুর রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।

খলিলুর রহমানের নেতৃত্বকে স্বাগত জানিয়ে গুতেরেস বলেন, কূটনীতি, সংলাপ ও সহযোগিতার মাধ্যমে সাধারণ পরিষদ বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা ও সদিচ্ছা পুনরুদ্ধারে ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে বিশ্ববাসীর জন্য আরও ভালো, স্বাস্থ্যকর ও শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

মঙ্গলবার (০৮ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে শপথ নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। এর মধ্য দিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পেল।

দায়িত্ব গ্রহণের পর খলিলুর রহমান বলেন, সংলাপ, সহযোগিতা ও বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার প্রতি অভিন্ন অঙ্গীকারের মাধ্যমে বর্তমান সংকট মোকাবিলা করে অগ্রগতি সম্ভব।

যুদ্ধ, মানবিক সংকট ও ক্রমবর্ধমান জলবায়ু পরিবর্তনের সময়ে জাতিসংঘের ওপর মানুষের আস্থা পুনরুদ্ধারের অঙ্গীকারও করেন তিনি। তাঁর এক বছরের সভাপতিত্বের মূল প্রতিপাদ্য—‘আস্থা পুনরুদ্ধার, রূপান্তর ব্যবস্থাপনা: এমন একটি জাতিসংঘ, যা সবার জন্য কাজ করে।’

খলিলুর রহমান বলেন, ‘আমাদের জাতিসংঘকে ভবিষ্যতের উপযোগী করে তুলতে হবে।’ এ ক্ষেত্রে নাগরিক সমাজের কণ্ঠস্বরকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্ব ১৯৪৫ সালের মতো নেই। ৮১তম অধিবেশনে এসে জাতিসংঘকেও সময়ের সঙ্গে এগিয়ে যেতে হবে।

খলিলুর রহমানের দায়িত্ব গ্রহণের সময় বিশ্ব সংঘাত, ভূরাজনৈতিক বিভাজন, পারমাণবিক সংঘাতের ঝুঁকি, দীর্ঘস্থায়ী দারিদ্র্য ও বৈষম্য এবং জলবায়ু সংকটসহ নানা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন গুতেরেস।

তিনি বলেন, বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার ওপর আস্থা পুনর্গঠনই বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। অস্থির এই সময়ে বৈশ্বিক সমস্যার সমাধানে বহুপক্ষীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রয়োজন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি।

তবে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ থেকে বৈশ্বিক অর্থব্যবস্থা পর্যন্ত বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বর্তমান বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষমতা ধরে রাখতে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনের শেষ বৈঠকে বিদায়ী সভাপতি আনালেনা বেয়ারবক জাতিসংঘের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, নানা সীমাবদ্ধতা থাকলেও জাতিসংঘ ছাড়া কোনো দেশ বা বিশ্ব আরও ভালো অবস্থানে থাকবে-এমনটি ভাবার কারণ নেই।

জাতিসংঘকে অপ্রাসঙ্গিক বা ব্যর্থ মনে করেন-এমন ব্যক্তিদের বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় জাতিসংঘবিহীন বিশ্বের বিকল্প পরিস্থিতি বিবেচনার আহ্বান জানান বেয়ারবক।

তিনি বলেন, জাতিসংঘের শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) না থাকলে লাখো শিশু বিদ্যালয়ে যাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতো। একইভাবে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষীরা বিভিন্ন এলাকায় মোতায়েন থাকায় অনেক নারী নিরাপত্তাহীনতার ভয় ছাড়াই ঘর থেকে বের হওয়ার সাহস পান।

এর আগে খলিলুর রহমান বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও রোহিঙ্গা বিষয়ক উচ্চ প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। জাতিসংঘেও তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। ঢাকার ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের একজন তিনি।