মিয়ানমারের চিন রাজ্যের পালেতওয়া টাউনশিপের প্রাথমিক শিক্ষা কারিকুলামে আরাকান আর্মির (এএ) রাখাইন ভাষায় পাঠ্যক্রম চালুর তীব্র বিরোধিতা করেছে স্থানীয় খুমি চিন জনগোষ্ঠীর নেতারা ও নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলো। তাদের অভিযোগ, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সম্মতি ছাড়া এ ধরনের পাঠ্যক্রম চাপিয়ে দেওয়া স্থানীয় জাতিগোষ্ঠার অধিকার লঙ্ঘনের শামিল। খবর বার্মা নিজজ ইন্টারন্যাশনালের।

চলতি শিক্ষাবর্ষে (২০২৬–২০২৭) আরাকার আর্মি এবং তাদের রাজনৈতিক শাখা ইউনাইটেড লিগ অব আরাকান (ইউএলএ) দ্বাদশ শ্রেণিতে আরাকান ভাষা, সাহিত্য ও ইতিহাসকে বাধ্যতামূলক বিষয় হিসেবে চালু করেছে। এর ফলে, আরাকান আর্মি নিয়ন্ত্রিত রাখাইন রাজ্যের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী চিন রাজ্যের পালেতওয়াতেও প্রচলিত মিয়ানমার ভাষার বিষয়টি প্রতিস্থাপিত হয়েছে।

গত ৬ সেপ্টেম্বর দেওয়া এক বিবৃতিতে গ্লোবাল খুমি অর্গানাইজেশন (জিকেও) এ নীতির নিন্দা জানায়। সংগঠনটির ভাষ্য, স্থানীয় জনগণের সম্মতি ছাড়া বাইরের কোনো জাতিগোষ্ঠীর পাঠ্যক্রম চাপিয়ে দেওয়া জাতিসংঘের আদিবাসী জনগণের অধিকারবিষয়ক ঘোষণাপত্রের (ইউএনডিআরআইপি) লঙ্ঘন এবং এর ফলে স্থানীয় সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে গভীর বিভাজন তৈরি হতে পারে।

স্থানীয় এক খুমি বাসিন্দা চিন ওয়ার্ল্ডকে বলেন, চিন রাজ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ পালেতওয়ায় নতুন আরাকান ভাষার পাঠ্যক্রম চালু করাকে প্রভাবশালী জাতিগত কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে অস্ত্রধারীদের নির্দেশ হওয়ায় স্থানীয়রা প্রকাশ্যে প্রতিবাদ না করে নীরব রয়েছেন বলেও তিনি জানান।

ইউএলএর আরাকান ন্যাশনাল এডুকেশন ডিপার্টমেন্ট নতুন দ্বাদশ শ্রেণির পাঠ্যক্রমটি তৈরি করেছে। এতে মিয়ানমারের বর্ণমালা ব্যবহার করে আরাকান ভাষার সাহিত্য, ইতিহাস ও ঐতিহ্যবাহী রীতিনীতি পড়ানো হচ্ছে।

পালেতওয়ার খুমি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে এরই মধ্যে খুমি ভাষা ও সাহিত্য পড়ানো হয়। তবে স্থানীয় খুমি সম্প্রদায়ের মতে, চিন রাজ্যের ভেতরে আরাকান আর্মির একতরফাভাবে আরাকানভিত্তিক শিক্ষানীতি বাস্তবায়ন করে তাদের কর্তৃত্বের সীমা অতিক্রম করছে।

এ নিয়ে স্থানীয় জাতিগোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে আঞ্চলিক প্রতিরোধ প্রশাসনের সম্পর্ক ও শাসনব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।