রমজান মাস সংযমের মাস। রোজা থাকা অবস্থায় দিনের আলোয় খাবার, পানীয় এবং ধূমপান থেকে বিরত থাকেন মুসল্লিরা। সারাদিন সংযম থেকে ইফতারের পরপর অনেকেই ধূমপান করেন। আপনি জানেন কি এতে আপনার শরীর ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

যারা ধূমপানে আসক্ত তাদের জন্য রোজার মাস উপযুক্ত সময় এই আসক্তি বর্জন করার। যারা ইফতারের পর ধূমপান করেন তাদের অ্যাসিডিটির সমস্যা অনেক সময় বেড়ে যায়। কেননা, ধূমপান পাকস্থলীর হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিডের ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়, যার ফলে গ্যাসট্রাইটিস বা পাকস্থলীতে প্রদাহ তৈরি হয়। এ ছাড়া ধূমপানের ফলে ফুসফুসের প্রদাহসহ নানাবিধ শারীরিক সমস্যার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

সারা দিন রোজা রেখে ইফতারির পর ধূমপান করা মাহে রমজানের মূলনীতি বিরুদ্ধ ও শরীরের জন্যও ক্ষতিকর। এটি স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকিও বাড়িয়ে দেয়। তাই রোজার মাসে সর্বোচ্চ চেষ্টা ও প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকা উচিত ধূমপান ত্যাগ করার।

পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে ঈমানদারগণ! যে সমস্ত পাক-পবিত্র (উৎকৃষ্ট) জিনিস আমি তোমাদের রিজিক হিসেবে দিয়েছি সেগুলো খাও এবং আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো। যদি তোমরা তাঁরই ইবাদত করে থাকো। (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৭২)। এই আয়াত দ্বারা বোঝা যায়, ধূমপান করা কোনো মুমিনের জন্য শোভা পায় না। কোনো মুমিন ধূমপান করে অন্যকে কষ্ট দিতে পারে না। রাসুল (সা.) বলেছেন, কেউ অপরের ক্ষতি করলে আল্লাহ তার ক্ষতিসাধন করবেন। (আবু দাউদ, হাদিস : ৩৬৩৫)। সুতরাং বান্দা হিসাবে আমাদেরকে এ ব্যাপারে পূর্ণ সর্তক হওয়া প্রয়োজন । এসব নিষিদ্ব জিনিসপত্র থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

রোজার পবিত্রতা রক্ষায় ও শারীরিক সুস্থতার জন্য ধূমপান ত্যাগ করা খুবই জরুরি। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ ও কাউন্সিলিং নেয়া যেতে পারে।

এ বিষয়ে জর্ডান ন্যাশনাল অ্যান্টি-স্মোকিং সোসাইটির প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ শ্রেইম বলেছেন যে, অতিরিক্ত ধূমপান ফুসফুস এবং স্নায়ুতন্ত্রকে উচ্চ ঝুঁকিতে ফেলে।

তিনি রমজানকে ধূমপান ত্যাগ করার একটি সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

 

-পার্বত্য সময়