রোহিঙ্গা ইস্যুতে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেছেন, ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের এই সময়ে বাংলাদেশ তার কাঁধে অসাধারণ মানবিক দায়িত্ব বহন করছে। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে রোহিঙ্গা সংকট এখনো অব্যাহত রয়েছে।
শুক্রবার (৫ জুন) ঢাকায় সফররত তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বছরের পর বছর ধরে (মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হওয়া) রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে মানবতার পক্ষে এক ঐতিহাসিক ত্যাগ স্বীকার করেছে।
তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী ও ন্যায্য সমাধান খুঁজে বের করতে তুরস্ক সংশ্লিষ্ট প্রতিবেশী দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে।
হাকান ফিদান বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আলোচ্যসূচিতে রাখতে তুরস্ক ধারাবাহিকভাবে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি জানান, আজ শুক্রবার বিকেলে তিনি তার ‘প্রিয় ভাই’ ড. খলিলুর রহমানকে সঙ্গে নিয়ে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনে যাবেন। সেখানে তারা সরাসরি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন।
তিনি আরও জানান, পরিদর্শনকালে তুরস্কের বিভিন্ন মানবিক সংস্থা—তুর্কি সহযোগিতা ও সমন্বয় সংস্থা (টিকা), দুর্যোগ ও জরুরি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এএফএডি), তুর্কি রেড ক্রিসেন্ট এবং তুরস্ক দিয়ানেত ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হবে। পাশাপাশি একটি ফিল্ড হাসপাতালও পরিদর্শন করবেন তিনি।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশ্বাস দিয়ে বলেন, রোহিঙ্গাদের জীবনমান উন্নয়নে মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি তাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের প্রচেষ্টায়ও তুরস্ক সহযোগিতা চালিয়ে যাবে।
তিনি বলেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা, শান্তি ও সমৃদ্ধি তুরস্কের পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে বহুমাত্রিক সহযোগিতার ক্ষেত্র ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে এবং দুই ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে তা সামঞ্জস্যপূর্ণ।
হাকান ফিদান আরও বলেন, নতুন নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করা হবে এবং দক্ষিণ এশিয়ায় স্থিতিশীলতা, শান্তি ও সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠায় উভয় দেশ তাদের অভিন্ন প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে।


