ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতাসংগ্রামের বীরকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের ৯৪তম আত্মাহুতি দিবস আজ বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর)। ১৯৩২ সালের এই দিনে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী ইউরোপিয়ান ক্লাবে সশস্ত্র অভিযান চালিয়ে ফেরার সময় ব্রিটিশ পুলিশের গুলিতে আহত হন তিনি। ইংরেজদের হাতে ধরা পড়ার আশঙ্কায় নিজের পকেটে থাকা পটাশিয়াম সায়ানাইড খেয়ে আত্মহনন করেন এই বিপ্লবী নারী।

প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার ১৯১১ সালের ৫ মে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার ধলঘাট ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন। তার ডাকনাম ছিল ‘রানী’ এবং বিপ্লবী কর্মকাণ্ডে ছদ্মনাম হিসেবে ‘ফুলতার’ ব্যবহার করতেন।

শিক্ষাজীবনে অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন প্রীতিলতা। ১৯২৭ সালে চট্টগ্রামের খাস্তগীর বালিকা বিদ্যালয় থেকে প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিক পাস করেন তিনি। এরপর ১৯২৯ সালে ঢাকা ইডেন মহিলা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় ঢাকা বোর্ডে প্রথম স্থান অর্জন করেন। পরে কলকাতার বেথুন কলেজ থেকে দর্শনশাস্ত্রে ডিস্টিংশনসহ স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।

শিক্ষাজীবনের পাশাপাশি প্রীতিলতা যুক্ত হন ব্রিটিশবিরোধী সশস্ত্র আন্দোলনে। তিনি মাস্টারদা সূর্য সেনের নেতৃত্বাধীন বিপ্লবী দলের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে কাজ করেন। ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে তিনি সাহসিকতা ও আত্মত্যাগের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।

১৯৩২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে মাস্টারদা সূর্য সেনের নির্দেশে কয়েকজন বিপ্লবীকে সঙ্গে নিয়ে পাহাড়তলী ইউরোপিয়ান ক্লাবে অভিযান চালান প্রীতিলতা। সে সময় ক্লাবটি ব্রিটিশ ও ইউরোপীয়দের বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো। বিপ্লবীরা সেখানে সশস্ত্র আক্রমণ চালান।

অভিযান শেষে ফেরার সময় প্রীতিলতার শরীরে গুলি লাগে। আহত অবস্থায় নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরে যাওয়া সম্ভব না হওয়ায় গ্রেপ্তারের আশঙ্কা তৈরি হয়। ব্রিটিশদের হাতে ধরা পড়ে বিপ্লবী কর্মকাণ্ড ও সহযোদ্ধাদের সম্পর্কে কোনো তথ্য দিতে চাননি তিনি। শেষ পর্যন্ত সঙ্গে থাকা পটাশিয়াম সায়ানাইড গ্রহণ করে আত্মাহুতি দেন মাত্র ২১ বছর বয়সী এই বিপ্লবী।

প্রীতিলতার আত্মত্যাগ ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। দেশমাতৃকার স্বাধীনতার জন্য তার সাহস, দৃঢ়তা ও আত্মত্যাগ পরবর্তী প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে রয়েছে।

কীর্তিমান এ বাঙালি বিপ্লবীকে তাই শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে প্রতিটি বাঙালি।