কক্সবাজারের উখিয়ায় অপহরণের শিকার হওয়ার পরও প্রাণে রক্ষা পাননি রোহিঙ্গা যুবক মুজিবুর রহমান (৩২)। অপহরণের পর পরিবারের পক্ষ থেকে ক্যাম্প ইনচার্জকে বিষয়টি অবহিত করা হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। নিখোঁজের ১০ দিন পর উপজেলার জালিয়াপালং ও পালংখালী ইউনিয়নের মধ্যবর্তী নুনিয়ারছড়ার গহিন পাহাড়ি জঙ্গল থেকে তাঁর মাথা ও দেহ বিচ্ছিন্ন অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার (০২ নভেম্বর) সন্ধ্যার দিকে স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উখিয়া থানা পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে। এ সময় নিহতের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
নিহত মুজিবুর রহমান উখিয়ার বালুখালী ৮-ইস্ট রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের এ-৬ ব্লকের বাসিন্দা।
পরিবারের অভিযোগ, গত ২৩ অক্টোবর পালংখালী এলাকায় একটি টমটম (অটোরিকশা) গতিরোধ করে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মুজিবুর রহমানকে অপহরণ করে দুর্বৃত্তরা। পরে অপহরণকারীরা মুঠোফোনে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে মুক্তিপণ দাবি করে। টাকা না দিলে তাঁকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। অপহরণের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের ইনচার্জকে লিখিতভাবে অবহিত করার পাশাপাশি পরিবারের পক্ষ থেকে উখিয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগে সাতজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে অপহরণের পর মুক্তিপণ দাবি ও হত্যার হুমকির মধ্যেও মুজিবুরকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত ১০ দিন পর গহিন পাহাড়ি জঙ্গল থেকে তাঁর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হলো। এ ঘটনায় রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের নিরাপত্তা ও অপহরণ-অপরাধের ভয়াবহতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদার বলেন, “উখিয়া উপজেলার জালিয়াপালং ও পালংখালী ইউনিয়নের মধ্যবর্তী গহিন পাহাড়ি এলাকার জঙ্গল থেকে এক রোহিঙ্গা যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরে স্বজনদের মাধ্যমে মরদেহটি বালুখালী ৮-ইস্ট রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের এ-৬ ব্লকের বাসিন্দা মুজিবুর রহমান (৩২) বলে শনাক্ত করা হয়।”
তিনি আরও বলেন, “মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও রহস্য উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত করছে।”
তবে লিখিত অভিযোগে ক্যাম্প ইনচার্জকে অবহিত করার বিষয়টির সত্যতা জানতে সংশ্লিষ্ট রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের ইনচার্জের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি ও হত্যার হুমকির ঘটনায় দায়ের করা অভিযোগের পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কারা জড়িত, কী কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে এবং অপহরণের পর তাকে কোথায় আটকে রাখা হয়েছিল, সেসব বিষয় খতিয়ে দেখছে পুলিশ।


