কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফে অবস্থিত রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে নতুন করে ক্ষমতার কাঠামো ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এক তরুণ রোহিঙ্গার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে জেনারেশন-জি (জেন-জি) রোহিঙ্গাদের একটি সংগঠিত অনলাইন ও অফলাইন আন্দোলন শিবিরের ভেতরের প্রভাবশালী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।
বিশ্বের বৃহত্তম আশ্রয় শিবির হিসেবে পরিচিত কক্সবাজারের এই ক্যাম্পগুলোতে ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা কঠোর প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের মধ্যে বসবাস করছে, যেখানে চলাচল সীমিত এবং স্বাধীন বিচার ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকার সীমিত।
এই প্রেক্ষাপটে রোহিঙ্গা কমিটি ফর পিস অ্যান্ড রিপ্যাট্রিয়েশন (আরসিপিআর) নামের একটি সংগঠন শিবিরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সংগঠনটি নিজেকে ঐক্য ও প্রত্যাবাসনের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দাবি করলেও, শিবিরের অনেক বাসিন্দা ও পর্যবেক্ষকদের মতে এটি ক্ষমতাসীন কর্তৃপক্ষের সমর্থনপুষ্ট একটি কাঠামো হিসেবে কাজ করছে।
সংগঠনটির কেন্দ্রীয় ব্যক্তিত্ব দীল মোহাম্মদকে ঘিরে নানা বিতর্ক রয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। শিবিরে তার উত্থান এবং প্রভাব বিস্তার নিয়ে বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ উঠেছে বলে বাসিন্দাদের দাবি।
তবে আরসিপিআর এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, তারা শিবিরে সহিংসতা কমাতে এবং স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে।
সম্প্রতি এক তরুণ রোহিঙ্গা মোহাম্মদ উল্লাহর মৃত্যু এবং তার আগে হুমকি ও নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই আন্দোলন আরও তীব্র হয়েছে। জেন-জি রোহিঙ্গারা একটি অনলাইন পিটিশন ও সমন্বিত প্রচারণা শুরু করেছে, যেখানে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
তাদের অভিযোগ, শিবিরে ভয়ভীতি, চাপ ও প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে মতপ্রকাশ দমন করা হচ্ছে। তবে আন্দোলনকারীরা বলছেন, এটি কোনো সহিংস আন্দোলন নয়, বরং ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তার দাবি।
মোহাম্মদ উল্লাহর পরিবার দাবি করেছে, মৃত্যুর আগে তিনি হুমকির মুখে শিবির ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন এবং পরে সমুদ্রে একটি নৌকাডুবিতে প্রাণ হারান বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে আন্দোলনকারীরা বলছেন, এটি দীর্ঘদিনের ভয় ও চাপের ফল, যা শেষ পর্যন্ত একটি প্রাণহানির ঘটনার দিকে নিয়ে গেছে।
এদিকে আন্দোলন তীব্র হওয়ার পর আরসিপিআর নেতৃত্ব ও দীল মোহাম্মদের পক্ষ থেকে পাল্টা প্রতিক্রিয়া এসেছে। সংগঠনটি অভিযোগ অস্বীকার করে আন্দোলনকারীদের ‘ভুল তথ্য ছড়ানো একটি ক্ষুদ্র গোষ্ঠী’ বলে উল্লেখ করেছে।
জেন-জি রোহিঙ্গা আন্দোলনকারীরা বলছেন, তারা প্রতিশোধ নয়, বরং ন্যায়বিচার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে চান।
তাদের ভাষায়, ‘আমরা চাই না আর কোনো তরুণ ভয় বা চাপের কারণে জীবন হারাক বা নীরব হয়ে যাক।’
সূত্র: ঢাকা ট্রিউবিউন


