খাগড়াছড়ির গুইমারায় গত বছরের সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য দোকানঘর নির্মাণ, হুইলচেয়ার ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণের পাশাপাশি বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা এবং কারিগরি প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারীদের পুরস্কৃত করা হয়।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে গুইমারা সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ওয়াদুদ ভূইয়া।

সেনাবাহিনীর সিন্দুকছড়ি জোনের উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচির আওতায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য দোকানঘর নির্মাণ, হুইলচেয়ার ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে সোলার ল্যাম্পপোস্ট স্থাপন, কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা এবং কারিগরি প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারীদের পুরস্কার দেওয়া হয়। দিনব্যাপী মেডিকেল ক্যাম্পে স্থানীয়দের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধও দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওয়াদুদ ভূইয়া বলেন, পাহাড়ের সব জনগোষ্ঠীকে মূলধারার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা না গেলে এ অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি ও উন্নয়ন সম্ভব নয়। পাহাড়ি-বাঙালি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত, সিন্দুকছড়ি জোনের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী নেহাত ফয়সল, লক্ষ্মীছড়ি জোনের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খান সজিবুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মোরতোজা আলী খানসহ সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বছরের এই সময়ে গুইমারার রামসু বাজার এলাকায় সহিংসতার ঘটনায় তিনজন পাহাড়ি নিহত হন। এ ঘটনায় সেনাবাহিনী, পুলিশ ও সাংবাদিকসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হন। এ সময় কয়েকটি বসতবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।