দিল্লিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে পুলিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ ও বর্বরতার অভিযোগ তুলেছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে দাবি করেছেন, সোমবারের (২০ জুলাই) বিক্ষোভে দিল্লি পুলিশ শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ করেছে এবং এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলে দীপকে অভিযোগ করেন, বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালানো হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ১২ বছর বয়সী কয়েকজন মেয়েশিশুসহ অনেকের মাথায় আঘাত করা হয়েছে এবং এতে পুরুষ পুলিশ সদস্যরাও জড়িত ছিলেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, এক ছাত্রীকে গলায় লাঠি দিয়ে আঘাত করার পর তিনি মাটিতে পড়ে যান এবং পরে পদদলিত হয়ে গুরুতর আহত হন। ওই ছাত্রীর কিছু হলে এর দায় দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর বর্তাবে বলেও দাবি করেন তিনি।
দীপকের অভিযোগ, বিক্ষোভ থামাতে চাইলে পুলিশ জলকামান ব্যবহার করতে পারত। কিন্তু তার পরিবর্তে লাঠিচার্জ করা হয়, যার পরপরই পদদলনের ঘটনা ঘটে।
তিনি আরও দাবি করেন, বিক্ষোভস্থলের আশপাশে পাথরভর্তি ট্রাকের উপস্থিতি এবং কিছু সাদা পোশাকধারীর হাতে লাঠি তুলে দেওয়ার ঘটনা পূর্বপরিকল্পিত ছিল। তার ভাষ্য, এসব ব্যক্তির কেউ কেউ পরে দিল্লি পুলিশের পোশাক পরিধান করেন।
জলবায়ু আন্দোলনকর্মী সোনম ওয়াংচুকের প্রসঙ্গ টেনে দীপকে বলেন, ২৩ দিন ধরে অনশনরত ওয়াংচুককে অনশন ভাঙাতে চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে বিক্ষোভে পুলিশের পদক্ষেপ দেখার পর তিনি অনশন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
সিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আন্দোলন অব্যাহত থাকবে এবং দল তাদের দাবিতে অনড় থাকবে।
এদিকে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, সংসদমুখী বিক্ষোভে সংঘর্ষের ঘটনায় ১১৮ জনের বেশি পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন প্রায় ৬০ জন বিক্ষোভকারীও। পুলিশের দাবি, বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করেন, পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করেন এবং সরকারি ও পুলিশের যানবাহনসহ জনসম্পত্তি ভাঙচুর করেন। এ ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ৭০ জন বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করেছে দিল্লি পুলিশ বলেও জানা গেছে।
অন্যদিকে সিজেপির প্রতিনিধিদল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডার সঙ্গে বৈঠকে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, নিহত নিট পরীক্ষার্থীদের পরিবারকে এক কোটি রুপি ক্ষতিপূরণ এবং সোনম ওয়াংচুকের মুক্তিসহ বিভিন্ন দাবি উত্থাপন করে।
তবে এই প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলো সিজেপির পক্ষ থেকে করা হয়েছে। দিল্লি পুলিশ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, বিক্ষোভ চলাকালে সহিংসতা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।


