ভারতের মণিপুর রাজ্য ও মিয়ানমারের মধ্যকার সীমান্তের প্রায় ৫৫ কিলোমিটার এলাকায় বেড়া নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। পুরো সীমান্তে বেড়া নির্মাণ ২০২৮ সালের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মণিপুরের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গোবিন্দাস কোন্থৌজাম।
গত ২ সেপ্টেম্বর রাজ্য বিধানসভায় বিরোধী দলীয় বিধায়ক কে রঞ্জিত সিংয়ের উত্থাপিত মনোযোগ আকর্ষণ প্রস্তাবের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। সম্প্রতি ভারত ও মিয়ানমারের মধ্যে সম্ভাব্য ভূমি বিনিময়ের খবরের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি বিধানসভায় উত্থাপন করা হয়।
দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভূমি বিনিময়ের প্রস্তাব নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে রাজ্য সরকার এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ পায়নি। সীমান্তের সার্বভৌমত্বসংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট নাগরিকদের বিষয়টি জানানো প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারত সরকার মণিপুরের চন্দেল জেলা ও মিয়ানমারের সাগাইং অঞ্চলের কাবাও উপত্যকার মধ্যবর্তী সীমান্তে ৬৫ থেকে ৬৮ নম্বর সীমান্ত পিলারের মধ্যকার প্রায় ১ দশমিক ৪ বর্গমাইল এলাকা নিয়ে সীমান্ত সমন্বয়ের প্রস্তাব দিয়েছে। গত ১৭ জুলাই দ্য ডিপ্লোম্যাট প্রথম এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এর আগে, ৩০ মে থেকে ৩ জুন পর্যন্ত মিয়ানমার সরকারের প্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের ভারত সফরের সময় সীমান্তসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
মন্ত্রী জানান, মণিপুর ও মিয়ানমারের মধ্যকার সীমান্তের দৈর্ঘ্য প্রায় ৩৯৮ কিলোমিটার। সীমান্তটি ৩২ থেকে ১৩০ নম্বর পিলার পর্যন্ত বিস্তৃত। এর মধ্যে প্রায় ৫৫ কিলোমিটার এলাকায় বেড়া নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা মোরেহ ৭৫ থেকে ৭৯ নম্বর সীমান্ত পিলারের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত। নির্মাণসামগ্রী পরিবহনে নানা সমস্যার কারণে বেড়া নির্মাণে বিলম্ব হচ্ছে। পাশাপাশি সীমান্তের যেসব অংশ এখনো চিহ্নিত করা হয়নি, সেগুলো চিহ্নিত করার কাজও চলছে।
এদিকে মিয়ানমারের তামু টাউনশিপভিত্তিক একটি পিপলস ডিফেন্স ফোর্সের (পিডিএফ) সদস্য মিয়ানমার ভিত্তিক পত্রিকা মিজজিমাকে বলেন, সীমান্তে বেড়া নির্মাণ একতরফাভাবে করা সম্ভব নয়। কিছু এলাকায় এখনো সীমান্ত নির্ধারণ করা হয়নি এবং ভূখণ্ড দখলের অভিযোগও রয়েছে। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে জোর করে বেড়া নির্মাণ করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ওই পিডিএফ সদস্যের দাবি, ভারতের দিক থেকে ভূখণ্ডে অনুপ্রবেশের প্রায় ছয়টি ঘটনা ঘটেছে। যেসব এলাকায় বেড়া নির্মাণের কাজ চলছিল, সেসব স্থানে স্থানীয় পিডিএফ সদস্যরা প্রতিবাদও করেছেন। এর মধ্যে আপার তামুর মিয়োথিত শহরের কাছে দুটি এলাকা, মোরেহ ও তামুর মধ্যবর্তী এলাকা এবং ৫৯-৬০, ৭৫-৭৬ ও ৮২-৮৩ নম্বর সীমান্ত পিলারের মধ্যবর্তী কয়েকটি স্থান রয়েছে।
সীমান্ত পিলার ৫৯-এর কাছে একটি পুরোনো ঘটনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তার অভিযোগ, ভারতীয় সামরিক সদস্যরা মিয়ানমারের ভূখণ্ডে প্রবেশ করে তামু জেলা পিপলস ডিফেন্স টিমের একটি ক্যাম্পে অভিযান চালান। ওই ঘটনায় ১০ জন সদস্যকে আটক ও হত্যা করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।
মাদক পাচার, অবৈধ বাণিজ্য, অনিবন্ধিত অভিবাসন, শরণার্থী সমস্যা, সশস্ত্র সংঘাত ও জাতীয় নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ মোকাবিলায় ভারত মিয়ানমারের সঙ্গে থাকা প্রায় ১ হাজার ৬৪৩ কিলোমিটার পুরো সীমান্তে বেড়া নির্মাণ করছে।
তবে মিজো, নাগা, কুকি ও জো জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন সংগঠন এ প্রকল্পের বিরোধিতা করছে। তাদের অভিযোগ, সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণের ফলে সীমান্তের দুই পাশে বসবাসকারী একই জাতিগোষ্ঠীর মানুষের মধ্যে বিভাজন তৈরি হবে। একই সঙ্গে পূর্বপুরুষের জমি ও কৃষিজমি হারানোর পাশাপাশি স্থানীয় সংস্কৃতি ও জীবিকার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।


