শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ ও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে কংগ্রেস। কর্মসূচি থেকে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, দলীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেসহ শীর্ষ নেতাদের আটক করে দিল্লি পুলিশ। প্রায় দুই ঘণ্টা পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে সংসদে আলোচনার দাবিতে স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে বৈঠকে আশানুরূপ সাড়া না পেয়ে কংগ্রেস নেতারা হঠাৎ করে ৭ লোক কল্যাণ মার্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। পরে সেখানে অন্যান্য বিরোধী দলের নেতারাও যোগ দেন।
বিক্ষোভ চলাকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া একাধিক পোস্টে রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, সরকার শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি দমন-পীড়নের জবাবদিহি এড়িয়ে যাচ্ছে এবং সংসদে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে চায় না। তিনি প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন।
সন্ধ্যার দিকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি পরে দাবি করেন, সরকার বুধবার (২২ জুলাই) সংসদে বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় রাজি হলেও কংগ্রেস শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে অনড় ছিল। সরকার সেই দাবি না মানায় পরে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেয়।
পুলিশ রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ কংগ্রেসের শীর্ষ নেতাদের জোর করে বাসে তুলে নিয়ে যায়। ধস্তাধস্তির সময় রাহুল গান্ধীর নাক দিয়ে রক্ত পড়তে দেখা যায়। পরে তাঁকে দিল্লির ছত্রশাল স্টেডিয়ামে নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে মন্দির মার্গ থানায় নেওয়া হলেও রাতের দিকে তাকেও মুক্তি দেওয়া হয়।
প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ভারতের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলছে। আন্দোলনকারীরা শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জবাবদিহি এবং শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুকের মুক্তিসহ বিভিন্ন দাবি জানিয়ে আসছেন।
সোমবার সংসদ ভবন অভিমুখে শিক্ষার্থীদের মিছিলে দিল্লি পুলিশের লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপের ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এরপরই আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে কংগ্রেস প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে।


