ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে নতুন বাণিজ্য চুক্তি উভয় দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য যৌথ বিনিয়োগ হিসেবে কাজ করবে। তিনি বলেন, এই চুক্তি আধুনিক ও ভারসাম্যপূর্ণ বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ অংশীদারিত্বের নতুন সুযোগ তৈরি করবে।

বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন রিসিপ্রোক্যাল ট্রেড (এআরটি) আমেরিকান ও বাংলাদেশি সমৃদ্ধির জন্য একটি যৌথ বিনিয়োগ। এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতামূলক ১৯ শতাংশ শুল্কে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশাধিকার বজায় রাখতে পারবে। চুক্তি না হলে এই শুল্ক ৩৭ শতাংশে পৌঁছাতে পারত।’

তিনি আরও বলেন, এআরটি চুক্তি দুই দেশের ব্যবসা ও শ্রমিকদের জন্য সমতাভিত্তিক পরিবেশ তৈরি করবে, যা উভয় অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

বোয়িং ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সাম্প্রতিক চুক্তির প্রসঙ্গ তুলে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসন বলেন, এটি বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতের আধুনিকায়নে মার্কিন বিনিয়োগের প্রতিফলন। তিনি জানান, বোয়িং শুধু উড়োজাহাজ সরবরাহই করছে না, বরং বাংলাদেশি পাইলট, প্রকৌশলী ও ব্যবস্থাপনা উন্নয়নেও সহায়তা দিচ্ছে।

এছাড়া জ্বালানি খাতে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে নতুন সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তার ভাষ্য, এই চুক্তি কোটি কোটি ডলারের জ্বালানি প্রকল্প বাস্তবায়নের পথ খুলে দেবে এবং বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও শিল্পোন্নয়নে সহায়তা করবে।

স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতার কথাও তুলে ধরেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, বাংলাদেশে সাম্প্রতিক হাম প্রাদুর্ভাব মোকাবিলা এবং টিকাদান কর্মসূচিতে যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা দিয়েছে।

অনুষ্ঠানে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসন বলেন, ‘আমেরিকা ফার্স্ট মানে আমেরিকা একা নয়।’ তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নীতিতে বিশ্বাস করে এবং বাংলাদেশসহ অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে চায়।

তিনি আরও বলেন, মুক্ত, অবাধ ও সমৃদ্ধ ইন্দো-প্যাসিফিক গঠনে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদারিত্ব গুরুত্বপূর্ণ। দুই দেশের অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারিত হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।