দেশের নদী ব্যবস্থার পুনরুদ্ধার, লবণাক্ততা হ্রাস, সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় ‘পদ্মা ব্যারাজ (প্রথম পর্যায়)’ প্রকল্প গ্রহণ করেছে সরকার। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা।

বুধবার (১৩ মে) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সভায় এ মেগা প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

পরিকল্পনা কমিশনের সুপারিশে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০৩৩ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পটি শতভাগ সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়িত হবে।

পরিকল্পনা কমিশন জানিয়েছে, খুলনা, ঢাকা, রাজশাহী ও বরিশাল বিভাগের ১৯টি জেলা এই প্রকল্পের আওতায় আসবে।

প্রকল্পটির মাধ্যমে হিসনা-মাথাভাঙ্গা, গড়াই-মধুমতি, চন্দনা-বারাশিয়া, বড়াল ও ইছামতীসহ প্রধান নদীগুলোর প্রবাহ ও নাব্যতা পুনরুদ্ধার করা হবে।

প্রকল্পের মাধ্যমে সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাট অঞ্চলে লবণাক্ততা হ্রাস, সুন্দরবনের জন্য মিঠাপানির সরবরাহ নিশ্চিত, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্য রয়েছে।

এছাড়া গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জি-কে) সেচ প্রকল্পসহ বিভিন্ন এলাকায় সেচ সুবিধা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও পরিকল্পিত ভূমি উন্নয়নেও প্রকল্পটি ভূমিকা রাখবে বলে জানানো হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ করা হবে। এতে থাকবে ৭৮টি স্পিলওয়ে, ১৮টি আন্ডারস্লুইস, দুটি ফিশ পাস, নৌ-লক, গাইড বাঁধ ও অ্যাপ্রোচ বাঁধ।

এছাড়া বিভিন্ন নদীতে ড্রেজিং, চ্যানেল পুনঃখনন ও বাঁধ নির্মাণসহ বিস্তৃত অবকাঠামো উন্নয়ন করা হবে। পাশাপাশি দুটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে, যার মোট উৎপাদন ক্ষমতা হবে ১১৩ মেগাওয়াট।

সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে জাতীয় জিডিপিতে শূন্য দশমিক ৪৫ শতাংশ অবদান রাখবে এবং বছরে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার আর্থিক সুবিধা পাওয়া যাবে।

এছাড়া প্রায় ২৮ লাখ ৮০ হাজার হেক্টর কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা নিশ্চিত হবে এবং পদ্মা নদীতে প্রায় ২ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনমিটার পানি সংরক্ষণ সম্ভব হবে।

পরিকল্পনা কমিশন জানিয়েছে, ফারাক্কা ব্যারাজ নির্মাণের পর পদ্মা নদীর শুষ্ক মৌসুমে পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ায় দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের নদীগুলোতে নাব্যতা সংকট, কৃষি ও পরিবেশগত ক্ষতি বৃদ্ধি পায়।

মিঠাপানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় লবণাক্ততা বেড়ে গিয়ে সুন্দরবনসহ উপকূলীয় অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য ও জীবিকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।