শহীদ লেফটেন্যান্ট তানজিম ছারোয়ার নির্জনের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। ২০২৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের চকরিয়ায় ডাকাতি প্রতিরোধ অভিযানে গিয়ে ছুরিকাঘাতে নিহত হন তরুণ এই সেনা কর্মকর্তা। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ২৩ বছর।

সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সাধারণ মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে লেফটেন্যান্ট তানজিম সারোয়ার নির্জন আত্মত্যাগ করেন। একাই একাধিক ডাকাতের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার একপর্যায়ে তিনি ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলে তাঁর মৃত্যু হয়।

তার আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ মরণোত্তর সেনাবাহিনী পদক (এসবিপি) প্রদান করা হয়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তার আত্মত্যাগকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে বলেছে, তার মতো সেনাসদস্যদের সাহস ও আত্মত্যাগ বাহিনীর সদস্যদের জন্য চিরন্তন প্রেরণার উৎস।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের পূর্ব মাইজপাড়া এলাকায় ডাকাতি প্রতিরোধ অভিযানে অংশ নিতে গিয়ে নিহত হন লেফটেন্যান্ট তানজিম। এ ঘটনায় ২৫ সেপ্টেম্বর সেনাবাহিনীর সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার আবদুল্লাহ আল হারুনুর রশিদ বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন। একই ঘটনায় অস্ত্র আইনেও পৃথক মামলা করা হয়।

তদন্ত শেষে পুলিশ দুই মামলায় মোট ১৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়। দীর্ঘ শুনানি, সাক্ষ্যগ্রহণ ও বিভিন্ন আলামত পর্যালোচনার পর মামলাটি রায়ের পর্যায়ে আসে।

তানজিম হত্যা মামলায় চারজনের মৃত্যুদণ্ড

লেফটেন্যান্ট তানজিম ছারোয়ার নির্জন হত্যা মামলায় চার আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন কক্সবাজারের আদালত। একই সঙ্গে পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং চারজনকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় পাঁচ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

গত ২০ মে দুপুরে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (পঞ্চম) আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আবুল মনসুর সিদ্দিকী এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— জালাল উদ্দিন ওরফে বাবুল, হেলাল উদ্দিন, মোহাম্মদ আরিফ উল্লাহ ও আনোয়ার হাকিম।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— জিয়াবুল করিম, ইসমাইল হোসেন, নুরুল আমিন, নাছির উদ্দিন ও আব্দুল করিম।

এছাড়া মোহাম্মদ সাদেক, আনোয়ারুল ইসলাম, মোরশেদ আলম ও শাহ আলমকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

খালাস পেয়েছেন আবু হানিফ, এনামুল হক ওরফে তোতলা এনাম, মো. এনাম, কামাল ওরফে ভেন্ডি কামাল এবং মিনহাজ উদ্দিন।