ফের মিয়ানমার উপকূলে রোহিঙ্গাবাহী দুই নৌকাডুবি, ৫ শতাধিক মৃত্যুর আশঙ্কা জাতিসংঘের
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে ছেড়ে যাওয়া রোহিঙ্গাবাহী দুটি নৌকা ডুবে পাঁচ শতাধিক মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ও আইওএম।
আমাদের রোহিঙ্গা ও মায়ানমার বিভাগের সর্বশেষ সংবাদ, গভীর প্রতিবেদন এবং এক্সক্লুসিভ কভারেজের সাথে আপডেট থাকুন। বর্তমানে এই বিভাগে মোট ৭৪ টি সংবাদ রয়েছে।
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে ছেড়ে যাওয়া রোহিঙ্গাবাহী দুটি নৌকা ডুবে পাঁচ শতাধিক মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ও আইওএম।
জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকটের শান্তিপূর্ণ ও টেকসই সমাধান মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যেই নিহিত এবং বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে সম্মানের সঙ্গে নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে সরকার নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে দুই দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা সহযোগিতা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, মাদক চোরাচালান প্রতিরোধ, আধুনিক নগর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, পুলিশ বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীনের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার এবং মিয়ানমারের সঙ্গে সংলাপ অব্যাহত রাখবে বাংলাদেশ।
রাখাইনে আরাকান আর্মির অবস্থান লক্ষ্য করে মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর নতুন করে বিমান হামলার পর সীমান্তে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি।
খলিলুর রহমান বলেন, ‘আগে দুবার কিন্তু বিএনপি সরকার রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান করেছে। এটা সবাই জানে এবং আমরা যে সমাধান করব, এটাও সবাই জানে।’
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেন, গণতান্ত্রিক সরকার হিসেবে বাংলাদেশ প্রথমে নিজস্ব উদ্যোগ নেবে এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে চীনের সহযোগিতা নিয়ে মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে আলোচনা করবে।
তুর্কি রেড ক্রিসেন্টের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশের জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং স্বেচ্ছামূলক, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনই এ সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান।
জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী বলেছেন, রোহিঙ্গারা নিজেরাই মিয়ানমারে ফিরতে চায় এবং নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনই এ সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান।
মিয়ানমারের পালেতওয়া অঞ্চলে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর গড়ে ওঠা সশস্ত্র সংগঠন 'খুমি পিপলস ফোর্স' বান্দরবানের সীমান্তবর্তী এলাকায় তৎপরতা চালাচ্ছে এবং বিজিবির কাছে সহায়তা চেয়ে চিঠি দিয়েছে বলে জানা গেছে।
বিশ্বজুড়ে সুদান, ইউক্রেন, আফগানিস্তান ও মিয়ানমারের সংঘাত শরণার্থী সংকটকে আরও গভীর করেছে। ২০২৫ সালে বৈশ্বিক বাস্তুচ্যুতি সামান্য কমলেও (প্রায় ৩ শতাংশ হ্রাস) সংকট এখনো তীব্র রয়ে গেছে।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা (ডব্লিউপিএস) বিষয়ক উন্মুক্ত বিতর্কে অংশ নিয়ে তিনি শান্তি প্রতিষ্ঠা, সংঘাত প্রতিরোধ এবং সংঘাত-পরবর্তী পুনর্গঠনে নারীদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
সংসদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, সরকার রাখাইন রাজ্যে একটি স্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির জন্য মিয়ানমার সরকার ও আরাকান আর্মির মধ্যে একটি কার্যকর সংলাপের ক্ষেত্র তৈরি করার বিষয়টিকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে এবং সেই লক্ষ্যে আমরা প্রচেষ্টা চালাচ্ছি।
আলোচনায় রোহিঙ্গা সংকটও বিশেষভাবে স্থান পায়। হার্টম্যান রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভূমিকার কথা স্বীকার করেন। অন্যদিকে প্রতিমন্ত্রী মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে সমর্থনের জন্য জার্মানি ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান।
বাংলাদেশের রোহিঙ্গা শিবিরে নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও পোশাক সহায়তা, সৌর আলো, নিরাপদ শৌচাগার ও নারী-বান্ধব কেন্দ্রের মাধ্যমে নারীদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও নেতৃত্বের সুযোগ বাড়াতে কাজ করছে মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলো।
আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, মিয়ানমারে চলমান পরিস্থিতির কারণে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসন এখনো জটিল ও চ্যালেঞ্জপূর্ণ।
বিশ্লেষকরা বলছেন, রোহিঙ্গা সংকট যত দীর্ঘ হচ্ছে, ততই তা বাংলাদেশের জন্য বড় বোঝা হয়ে উঠছে। মানবিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে আশ্রয় দেওয়া হলেও দীর্ঘমেয়াদে এই সংকট দেশের সামগ্রিক স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
বাংলাদেশ মনে করে, আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করা হলে রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান এবং মানবিক পরিস্থিতি উন্নয়নে কার্যকর অগ্রগতি সম্ভব হবে।
ইউএনএইচসিআরের পক্ষ থেকে ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা এবং ডেটা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও বাংলাদেশ বলছে, দেশের ভূখণ্ডে অবস্থানরত জনগোষ্ঠীর তথ্য সংরক্ষণ রাষ্ট্রের ন্যায্য অধিকার।
প্রাপ্ত তথ্য ও একাধিক সূত্রের বরাতে জানা যায়, ভিডিওটি সাম্প্রতিক সময়ে ধারণ করা নয়। সূত্রগুলোর দাবি, ফুটেজটি ২০২৪ সালে মিয়ানমারের মংডু টাউনশিপের মিউ থু গি এলাকায় ধারণ করা হয়েছিল।