কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির থেকে নিখোঁজের ১২ দিন পর এক যুবকের মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করেছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করা হয়েছে।

শনিবার (৪ জুলাই) রাত ১১টার দিকে জামতলী ১৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এইচ-ব্লকের একটি সেপটিক ট্যাংক থেকে অর্ধগলিত মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক পুলিশ সুপার মো. রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ।

নিহত আব্দুল হাফেজ (২৫) একই ক্যাম্পের বাসিন্দা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি মো. নুরুজ্জুহার ছেলে।

পরিবারের অভিযোগ, গত ২২ জুন রাতে স্থানীয় একটি দোকান থেকে বাড়ি ফেরার পথে কয়েকজন যুবক আব্দুল হাফেজকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। এরপর বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। দুই দিন পর, ২৪ জুন ক্যাম্প ইনচার্জের কাছে নিখোঁজের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেন পরিবারের সদস্যরা।

পরে স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকার একটি বাথরুমের সেপটিক ট্যাংক থেকে দুর্গন্ধ বের হতে দেখা যায়। ট্যাংকের ঢাকনা খুলে ভেতরে মাথাবিহীন একটি মরদেহ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা এপিবিএনকে খবর দেন।

পুলিশ জানায়, উদ্ধার হওয়া মরদেহটি অর্ধগলিত অবস্থায় ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অন্তত ৮ থেকে ১০ দিন আগে হত্যার পর মরদেহটি সেপটিক ট্যাংকে ফেলে রাখা হয়েছিল।

ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে স্থানীয়রা তিনজনকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছেন। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

এপিবিএনের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মো. রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে প্রাথমিকভাবে ক্যাম্পে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

তিনি আরও জানান, ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।