রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান এবং নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে চীনের সঙ্গে সহযোগিতা আরও জোরদার করবে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে মিয়ানমারের সঙ্গে গঠনমূলক সংলাপ অব্যাহত রেখে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরানোর লক্ষ্যে কাজ করবে সরকার।

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেছেন, চীনের পক্ষ থেকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগভিত্তিক একটি করিডর প্রতিষ্ঠার যে উদ্যোগের প্রস্তাব এসেছে, তা বাংলাদেশ ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে। এ ধরনের করিডর বাস্তবায়িত হলে পণ্য পরিবহন, মানুষের চলাচল এবং আঞ্চলিক সংযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে, যা বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও আঞ্চলিক সহযোগিতায় পারস্পরিক সুফল বয়ে আনবে।

শনিবার (৪ জুলাই) বিকেলে কক্সবাজারে দক্ষিণ এশিয়ান একাডেমি ফর ইন্টারন্যাশনাল লিডারশিপের তিনদিনব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

হুমায়ুন কবির বলেন, করিডর উদ্যোগের সঙ্গে মিয়ানমার ও রোহিঙ্গা ইস্যুরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। মিয়ানমারকে এ প্রক্রিয়ায় কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করতে হলে দেশটির অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি, স্থিতিশীলতা এবং রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা অপরিহার্য। এ বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের নিয়মিত যোগাযোগ ও সংলাপ চলছে।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের জন্য জাতীয় নিরাপত্তা ও মানবিক—উভয় দৃষ্টিকোণ থেকেই অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। তাই এ সংকটের স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করতে দ্বিপক্ষীয় উদ্যোগের পাশাপাশি বহুপক্ষীয় অংশীদারদেরও সম্পৃক্ত করতে হবে।

উপদেষ্টা আরও বলেন, চীন বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার। রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান এবং প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে বেইজিংয়ের সহযোগিতা আরও জোরদার করা হবে। একই সঙ্গে মিয়ানমারের সঙ্গে সংলাপ অব্যাহত রেখে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের জন্য বাংলাদেশ কাজ চালিয়ে যাবে।

এদিকে, তিনদিনব্যাপী দক্ষিণ এশিয়ান একাডেমি ফর ইন্টারন্যাশনাল লিডারশিপে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের জেসিআই সদস্য, তরুণ নেতা, আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি ও বিশিষ্ট অতিথিরা অংশ নিয়েছেন। দক্ষিণ এশিয়ার উদীয়মান নেতৃত্ব বিকাশের লক্ষ্যে জেসিআই বাংলাদেশ এ কর্মসূচির আয়োজন করেছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ২০২৬ সালের জেসিআই ওয়ার্ল্ড প্রেসিডেন্ট আলেহান্দ্রা কাস্তিয়ো, জেসিআই ভারতের ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট ভারত এন. আচার্য, জেসিআই নেপালের ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট সিনেটর জীবন কার্কি এবং জেসিআই শ্রীলঙ্কার ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট জে.সি. সান্দুন উইরাসিংহেসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের জেসিআই নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য জসীম উদ্দিন ও দেশের শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ীও অংশ নেন।