তিন লাখ টাকার চুক্তিতে ভুয়া পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন, শিক্ষাগত সনদসহ নানা জাল কাগজপত্র তৈরি করে ভোটার হওয়ার চেষ্টা করার অভিযোগে এক রোহিঙ্গা যুবককে আটক করা হয়েছে।
আটক যুবকের নাম মোহাম্মদ মাসুদ (১৯)। সোমবার (২৯ জুন) ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলা নির্বাচন অফিসে আবেদন যাচাইয়ের সময় তাকে আটক করেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, মাসুদ ভোটার হওয়ার জন্য আবেদন জমা দেন গৌরীপুর উপজেলার সহনাটী ইউনিয়নের দৌলতাবাদ এলাকার বাসিন্দা পরিচয়ে। তবে শিক্ষাগত যোগ্যতার কলাম পূরণের সময় তিনি বার্মা ভাষায় লেখেন, যা দেখে কর্মকর্তাদের সন্দেহ হয়।
পরে তার জমাকৃত কাগজপত্র যাচাই করে সেগুলো ভুয়া বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হন কর্মকর্তারা।
আবেদনপত্রে তিনি নিজের নাম মোহাম্মদ মাসুদ, বাবার নাম মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন এবং মায়ের নাম শান্তনা আক্তার উল্লেখ করেন।
এছাড়া তিনি জমা দেন সহনাটী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের স্বাক্ষরিত নাগরিকত্ব ও চারিত্রিক সনদপত্র, জন্মনিবন্ধন, একটি মাদ্রাসার শিক্ষাগত সনদ এবং একটি বেসরকারি হাসপাতালের রক্তের গ্রুপ পরীক্ষার প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন নথি।
প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, আটক মাসুদ কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ৮-ই ব্লকের মো. জোবায়ের ও শাকিলা খাতুনের সন্তান।
আটক মাসুদের বড় ভাই জানান, ভুয়া কাগজপত্র তৈরি এবং ভোটার হওয়ার জন্য ৩ লাখ টাকার চুক্তি করা হয়েছিল।
অন্যদিকে মাসুদ দাবি করেন, ভোটার আইডি ও জন্মনিবন্ধনের জন্য ১ লাখ টাকার মধ্যে ১০ হাজার টাকা অগ্রিম দেওয়া হয়েছিল। বাকি টাকা ভোটার আইডি পাওয়ার পর দেওয়ার কথা ছিল।
তিনি আরও জানান, গৌরীপুরের হুমায়ুন কবীর ও সাগর নামের দুই ব্যক্তি তাকে এ কাজে সহায়তা করেন। তাদের মাধ্যমে রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে এসে তিনি ১৫ দিন আগে এলাকায় আসেন এবং গৌরীপুর রেলওয়ে জংশনের একটি হোটেলে সাত দিন অবস্থান করেন।
সন্দেহজনক কাগজপত্র ও পরিচয় যাচাইয়ের পর উপজেলা নির্বাচন অফিসার ও কর্মকর্তারা তাকে আটক করেন। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পুলিশ ঘটনাস্থলে যান।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আটক যুবককে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।


