কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় পাহাড় থেকে প্রায় ৩০০ ফুট নিচে পড়ে গুরুতর আহত মা হাতিটিকে বাঁচানো গেল না। রোববার (১৩ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে হাতিটির মৃত্যু হয়।

কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক (টেকনাফ অঞ্চল) মো. মনিরুল ইসলাম হাতিটির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আহত হাতিটিকে বাঁচাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে মেরুদণ্ড ভেঙে যাওয়া এবং পেছনের দুই পা অচল হয়ে পড়ায় শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

বন বিভাগ জানায়, শনিবার দুপুরে টেকনাফ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের নাইট্যাংপাড়ার শিয়াল্যাঘোনা পাহাড়ি এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। ২০ থেকে ২৫ বছর বয়সী হাতিটি পাহাড়ের চূড়ায় খাবার খাওয়ার সময় ভারী বৃষ্টির কারণে নরম হয়ে যাওয়া মাটি ধসে নিচে গড়িয়ে পড়ে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পাহাড় থেকে নিচে পড়ার সময় একাধিক গাছ ও পাথরের সঙ্গে ধাক্কা লাগে হাতিটির। এতে পেছনের দুটি পা ভেঙে যায় এবং পেটের একটি অংশ কেটে যায়। দুর্ঘটনার পর বন বিভাগ ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের চিকিৎসকেরা ঘটনাস্থলে গিয়ে চিকিৎসা শুরু করেন।

টেকনাফ রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ বলেন, হাতিটিকে বাঁচাতে টেকনাফ উপজেলা ভেটেরিনারি হাসপাতাল ও ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের চিকিৎসকেরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় হাতিটিকে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে উন্নত চিকিৎসা দেওয়াও সম্ভব হয়নি।

তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থলটি পাথরবেষ্টিত হওয়ায় নিচে পড়ার সময় হাতিটির মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর আঘাত লাগতে পারে। গত ১০ বছরে পাহাড় থেকে পড়ে হাতির মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেও এবারের মতো এত গুরুতর আঘাতের ঘটনা বিরল।

বন কর্মকর্তারা জানান, হাতিটিকে নিয়মিত নেটং পাহাড় ও পাশের দমদমিয়া পাহাড়ি এলাকায় বিচরণ করতে দেখা যেত। ওই এলাকায় এশিয়ান হাতির একটি পালও রয়েছে।

এর আগে, গতকাল রাতেই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আহত হাতিটির সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।