বহু প্রতীক্ষিত ফুটবল বিশ্বকাপের পর্দা উঠছে আগামীকাল বৃহস্পতিবার। ৪৮ দল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে শুরু হচ্ছে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ। আয়োজক দেশ তিনটির বিভিন্ন শহরে ইতোমধ্যে সমর্থকদের ঢল নামতে শুরু করেছে।

মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক এস্তাদিও আজটেকা স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। সহ-আয়োজক মেক্সিকো স্থানীয় সময় বিকেল ৩টায় দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হবে। প্রায় ছয় সপ্তাহব্যাপী এই আয়োজনের পর্দা নামবে ১৯ জুলাই নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফাইনালের মাধ্যমে।

বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এবারের আসরকে ‘পৃথিবী কখনো দেখেনি এমন সর্বশ্রেষ্ঠ প্রদর্শনী’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তবে টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই টিকিটের উচ্চমূল্য, রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক সংঘাত নিয়ে নানা আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

বিশ্বকাপ ঘিরে সবচেয়ে বড় আকর্ষণগুলোর একটি হলো তারকাদের লড়াই। ৩৮ বছর বয়সী লিওনেল মেসি কি আর্জেন্টিনাকে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা এনে নিজের কিংবদন্তি মর্যাদাকে আরও উঁচুতে নিয়ে যেতে পারবেন? নাকি ৪১ বছর বয়সী ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো পর্তুগালকে প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ দেবেন? আবার হ্যারি কেনের নেতৃত্বে ইংল্যান্ড কি ১৯৬৬ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জিততে পারবে? এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে আগামী কয়েক সপ্তাহে।

তবে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি টিকিটের মূল্য নিয়েও সমালোচনা রয়েছে। ২০২২ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালের সবচেয়ে দামি টিকিটের মূল্য ছিল প্রায় ১ হাজার ৬০০ ডলার। এবারের আসরে সেই মূল্য কয়েকগুণ বেড়ে প্রায় ৩৩ হাজার ডলারে পৌঁছেছে। ফলে বিশ্বজুড়ে অনেক সমর্থক ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

এদিকে আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রভাবও বিশ্বকাপকে স্পর্শ করেছে। ইরানের ম্যাচ ও দলীয় ব্যবস্থাপনা নিয়ে ভিসাসংক্রান্ত জটিলতা আলোচনায় এসেছে। দেশটি অভিযোগ করেছে, তাদের কিছু কর্মকর্তা ভিসা না পাওয়ায় প্রস্তুতিতে বিঘ্ন ঘটছে।

এবারের বিশ্বকাপে দলসংখ্যা ৩২ থেকে বাড়িয়ে ৪৮ করা হয়েছে। ফলে গ্রুপ পর্বে ম্যাচের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রথম রাউন্ডে অনুষ্ঠিত হবে ৭২টি ম্যাচ। সেখান থেকে ৩২টি দল জায়গা করে নেবে নকআউট পর্বে।

এবারের আসরে আরও কিছু নতুন নিয়ম চালু হচ্ছে। তীব্র গরম ও আর্দ্রতার কথা বিবেচনায় রেখে ম্যাচে কুলিং ব্রেক রাখা হবে। সময় নষ্ট কমাতে দ্রুত বদলি সম্পন্ন করার নির্দেশনাও থাকবে। পাশাপাশি বর্ণবাদী আচরণ ও অসদাচরণের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান কার্যকর করা হবে।