পেসার নাহিদ রানার ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ের পরও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ২৫ রানের হার নিয়ে মাঠ ছাড়ল বাংলাদেশ। রানা ৬ উইকেট নিয়ে রেকর্ড গড়লেও ব্যাটারদের ব্যর্থতায় জয় তুলে নিতে পারেনি টাইগাররা।

হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ। শুরুতেই তাসকিন আহমেদের বোলিং নৈপুণ্যে চাপে পড়ে জিম্বাবুয়ে। সপ্তম ওভারে জোড়া উইকেট তুলে নিয়ে স্বাগতিকদের ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামান তাসকিন। পরে ক্রেইগ আরভিনকে বোল্ড করে তৃতীয় উইকেটও তুলে নেন তিনি।

৩৮ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর জিম্বাবুয়ের ওপর তাণ্ডব চালান নাহিদ রানা। মাত্র ২৫ রানের ব্যবধানে ৫ উইকেট তুলে নিয়ে স্বাগতিকদের বিপর্যয়ে ফেলেন এই পেসার। সিকান্দার রাজা, ওয়েসলি মাধভেরে, ক্লাইভ মাদান্দে, ইনোসেন্ট কাইয়া ও ব্র্যাড ইভান্সকে সাজঘরে ফেরান তিনি।

শেষ দিকে রিচার্ড এনগারাভা ও নিউম্যান ন্যামহুরির ৬৩ রানের জুটিতে লড়াইয়ের পুঁজি পায় জিম্বাবুয়ে। এনগারাভাকে ফিরিয়ে ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো এক ইনিংসে ৬ উইকেটের দেখা পান নাহিদ রানা। শেষ পর্যন্ত ৩৬.৪ ওভারে ১৪১ রানে অলআউট হয় স্বাগতিকরা।

বাংলাদেশের হয়ে ১০ ওভারে ২১ রান দিয়ে ৬ উইকেট নিয়ে ক্যারিয়ারসেরা বোলিং করেন নাহিদ রানা। ওয়ানডেতে বাংলাদেশের হয়ে সেরা বোলিং ফিগারের নতুন রেকর্ডও গড়েন তিনি। এর আগে মাশরাফি বিন মর্তুজা ও রুবেল হোসেনের রেকর্ড ছাড়িয়ে যান এই পেসার। তাসকিন নেন ২টি এবং মিরাজ ১ উইকেট।

১৪২ রানের সহজ লক্ষ্য নিয়ে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। ১৭ রানের মধ্যেই হারায় তিন উইকেট। তানজিদ হাসান ৮, নাজমুল হোসেন শান্ত ৩ ও সৌম্য সরকার ৬ রান করে ফিরে যান।

চতুর্থ উইকেটে তাওহিদ হৃদয় ও নুরুল হাসান সোহান ৪৯ রানের জুটি গড়ে কিছুটা আশা জাগান। তবে হৃদয় ২৫ রান করে আউট হওয়ার পর আবারও নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে বাংলাদেশ।

শেষ পর্যন্ত ৩৩.১ ওভারে ১১৬ রানে অলআউট হয় টাইগাররা। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৩১ রান করেন নুরুল হাসান সোহান। এছাড়া মিরাজ ১০, মোসাদ্দেক ৩, রিশাদ ৩ এবং তাসকিন-মুস্তাফিজ ৫ রান করেন।

জিম্বাবুয়ের হয়ে এনগারাভা ও ব্র্যাড ইভান্স ৩টি করে এবং মুজারাবানি ও ন্যামহুরি ২টি করে উইকেট নেন। ব্যাট হাতে ৩৩ রান ও বল হাতে ২ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার পান নিউম্যান ন্যামহুরি।

এই হারে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে গেল বাংলাদেশ। সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ আগামী ৯ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে।

এদিকে, টেস্টের হতাশা ভুলে ওয়ানডেতে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের। মেহেদী হাসান মিরাজের নেতৃত্বে গত বছরের অক্টোবর থেকে টানা চারটি ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জয়ের পর এবার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টানা পঞ্চম সিরিজ জয়ের লক্ষ্য ছিল টাইগারদের।

ম্যাচের আগে মিরাজ বলেছিলেন, ‘টেস্ট ম্যাচ আমরা ভালো খেলিনি, তবে সেটা অতীত। এমনটা মাঝে মাঝে হতে পারে। আমাদের লক্ষ্য নিজেদের সেরাটা দেওয়া।’

২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ সামনে রেখে প্রতিটি সিরিজই বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বকাপের সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে র‍্যাঙ্কিংয়ে ভালো অবস্থানে থাকা জরুরি। বর্তমানে বাংলাদেশ ৮৭ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে নবম স্থানে রয়েছে।

তবে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে হারের পর সিরিজে ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ এখন মিরাজদের সামনে। তিন ম্যাচের সিরিজে সমতা ফেরাতে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে জয়ের বিকল্প নেই বাংলাদেশের।