আর্লিং হলান্ডের দুর্দান্ত জোড়া গোলে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকে বিদায় করেছে নরওয়ে। এই জয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে ইতিহাস গড়েছে নরওয়েজিয়ানরা।

ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ছেড়ে দিয়ে পাল্টা আক্রমণের কৌশল নেয় ব্রাজিল। শুরুর দিকেই মাতেউস কুনিয়ার ওপর ফাউলের সুবাদে পেনাল্টি পেলেও সেটি কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন ব্রুনো গিমারাইস।

বিরতির পর ম্যাচে গতি বাড়ায় দুই দল। দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে নামেন তরুণ ফরোয়ার্ড এনদ্রিক, কিন্তু ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দারুণ পাস থেকে পাওয়া সহজ সুযোগ নষ্ট করেন তিনি। পরে ৬৮তম মিনিটে মাঠে নামেন নেইমারও।

তবে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন আর্লিং হলান্ড। ৭৯তম মিনিটে দুর্দান্ত হেডে নরওয়েকে এগিয়ে দেন তিনি। নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে দূরপাল্লার শক্তিশালী শটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন দলকে।

যোগ করা সময়ে পেনাল্টি থেকে একটি গোল শোধ করেন নেইমার। তবে ততক্ষণে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে গেছে।

এই জোড়া গোলের মাধ্যমে চলতি বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা সাতে নিয়ে যান হলান্ড। গোল্ডেন বুটের দৌড়ে তিনি এখন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে ও আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসির সমান গোলের মালিক।

পরিসংখ্যানেও দেখা গেছে, সুযোগ তৈরিতে এগিয়ে ছিল ব্রাজিল। দলটি ১৪টি শট নেয়, যার মধ্যে লক্ষ্যে ছিল চারটি। ব্রাজিলের প্রত্যাশিত গোল (এক্সজি) ছিল ২.৭৩, যেখানে নরওয়ের এক্সজি ছিল মাত্র ০.৮৪। তবে কম সুযোগ থেকেই সর্বোচ্চ সাফল্য তুলে নেয় নরওয়ে।

ম্যাচে বলের দখলে ছিল মাত্র ৩৩.৫ শতাংশ সময় ব্রাজিল। পাল্টা আক্রমণনির্ভর কৌশল নিলেও তৈরি হওয়া সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয় কার্লো আনচেলত্তির দল।

এই জয়ে বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাসের সেরা সাফল্য অর্জন করল নরওয়ে। কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ হবে মেক্সিকো ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ী।

অন্যদিকে, ১৯৯০ সালের পর এবারই প্রথম বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিতে হলো ব্রাজিলকে। এই হতাশাজনক ফলের পর প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তির ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। ইতালিয়ান এই কোচ ২০২৫ সালে ব্রাজিলের দায়িত্ব নেন এবং বিশ্বকাপ শুরুর আগে তাঁর চুক্তির মেয়াদ ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল।