খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে কর্মকর্তা সংকটে ব্যাহত হচ্ছে নাগরিক সেবা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের দিয়ে চলছে প্রশাসনিক কার্যক্রম। এতে প্রত্যন্ত এলাকা থেকে সেবা নিতে উপজেলা সদরে আসা মানুষকে কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়েই ফিরে যেতে হচ্ছে। বারবার উপজেলা সদরে আসতে গিয়ে বাড়ছে সময়, যাতায়াত খরচ ও ভোগান্তি।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দীঘিনালায় সরকারি দপ্তর রয়েছে ২৮টি। এর মধ্যে প্রায় ১০টি দপ্তরে বর্তমানে কর্মকর্তার পদ শূন্য। এসবের মধ্যে রয়েছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, সমাজসেবা কর্মকর্তা, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ও পরিসংখ্যান কর্মকর্তার পদসহ আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদ।
সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রায় এক মাস ধরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পদ এবং প্রায় দুই মাস ধরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদ শূন্য রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এ দুটি পদে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দিয়ে প্রশাসনিক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। ফলে ভূমি ব্যবস্থাপনা, প্রশাসনিক কার্যক্রমসহ বিভিন্ন সরকারি সেবা পেতে নাগরিকদের বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে।
সম্প্রতি সরেজমিনে উপজেলা পরিষদ ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ঘুরে দেখা যায়, প্রত্যন্ত এলাকা থেকে নানা প্রয়োজনে মানুষ উপজেলা সদরে এসেছেন। কেউ এসেছেন রেশন কার্ডের সমস্যা নিয়ে, কেউ চিকিৎসা ও সামাজিক সহায়তার আশায়। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা না থাকায় অনেকেই কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে অপেক্ষা করছেন কিংবা ফিরে যাচ্ছেন।
বেতছড়ি থেকে রেশন কার্ডের সমস্যা নিয়ে আসা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “গত মঙ্গলবার এসেছিলাম। আজ আবার এসেছি। কিন্তু ইউএনও না থাকায় আমার কাজ হচ্ছে না। কবে হবে, সেটিও জানি না। ইউএনও না থাকায় আমাদের খুবই অসুবিধা হচ্ছে।”
জামতলী বাঙালি পাড়া থেকে সমাজসেবা কার্যালয়ে আসা মো. আমজাদ হোসেন জানান, চোখের সমস্যা নিয়ে গত দুই-তিন দিন ধরে তিনি অফিসে আসছেন। কিন্তু কর্মকর্তার অনুপস্থিতির কারণে তাঁর কাজ হচ্ছে না। বারবার উপজেলা সদরে আসতে গিয়ে সময় ও অর্থ—দুটিই নষ্ট হচ্ছে।
একইভাবে গলায় টিউমার নিয়ে চিকিৎসা ও সহায়তা সংক্রান্ত বিষয়ে সমাজসেবা কার্যালয়ে আসা সেলিনা আক্তারকেও কর্মকর্তার অনুপস্থিতির কারণে অপেক্ষা করতে দেখা যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো শূন্য থাকায় সরকারি সেবা কার্যক্রমে ধীরগতি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে দুর্গম ও বিস্তৃত উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ একবার এসে কাঙ্ক্ষিত কর্মকর্তা বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে না পেলে তাঁদের আবারও উপজেলা সদরে আসতে হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি যেমন বাড়ছে, তেমনি নষ্ট হচ্ছে কর্মঘণ্টা ও অতিরিক্ত অর্থ।
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত শূন্য পদগুলোতে কর্মকর্তা পদায়নের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, দীঘিনালার মতো বিস্তৃত ও দুর্গম উপজেলায় সরকারি সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে প্রতিটি দপ্তরে প্রয়োজনীয় জনবল ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা থাকা জরুরি।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রুমানা আক্তার বলেন, দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ কয়েকটি সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তার পদ শূন্য রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদে দ্রুত সময়ের মধ্যে কর্মকর্তা পদায়নের জন্য কাজ করা হচ্ছে।


