খাগড়াছড়ির দীঘিনালা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভয়াবহ শিক্ষকসংকটে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। বিদ্যালয়টিতে ২১টি শিক্ষক পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র দুজন সহকারী শিক্ষক। তাদের সঙ্গে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে নিয়ে চলছে পাঁচটি শ্রেণির প্রায় ৪৮০ জন শিক্ষার্থীর পাঠদান। প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক না থাকায় নিয়মিত ক্লাস পরিচালনা, নির্ধারিত সময়ে পাঠ্যসূচি শেষ করা এবং পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। এতে উদ্বিগ্ন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষক পদের সংখ্যা ২১টি। এর মধ্যে ১৯টি পদই শূন্য রয়েছে। মাত্র দুজন সহকারী শিক্ষক দিয়ে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে নিতে হচ্ছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষেও পাঠদান করতে হচ্ছে। ফলে সীমিত জনবল দিয়ে বিদ্যালয়ের সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শিক্ষকসংকটের কারণে নিয়মিত ক্লাস হচ্ছে না। একাধিক বিষয়ের পাঠদান ব্যাহত হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থীকে নিজেরাই পড়াশোনার ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করতে হচ্ছে। এতে বিশেষ করে পরীক্ষার প্রস্তুতি ও পাঠ্যসূচি শেষ করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে তারা।
বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী অপূর্ব বড়ুয়া বলে, শিক্ষকসংকটের কারণে তাদের নিয়মিত লেখাপড়া ব্যাহত হচ্ছে। অনেক সময় প্রয়োজনীয় ক্লাস না হওয়ায় পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়তে হচ্ছে। দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে স্বাভাবিক পাঠদান নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি দাবি জানায় সে।
অভিভাবক লিপি দেওয়ান বলেন, সরকারি বিদ্যালয়ে সন্তানদের ভর্তি করিয়েও তারা প্রত্যাশিত শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে নিশ্চিন্ত থাকতে পারছেন না। পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় সন্তানদের পড়াশোনার ক্ষতি হচ্ছে। এভাবে দীর্ঘদিন চলতে থাকলে শিক্ষার্থীরা প্রতিযোগিতামূলক পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়বে। তাই দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে বিদ্যালয়ে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানান তিনি।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অনুপ কুমার দাশ বলেন, বিদ্যালয়ে শিক্ষক পদের সংখ্যা ২১টি। বর্তমানে মাত্র দুজন সহকারী শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। তাঁকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পাঠদানও করতে হচ্ছে। এত কমসংখ্যক শিক্ষক দিয়ে প্রায় ৪৮০ জন শিক্ষার্থীর পাঠদান পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন। শিক্ষকসংকটের কারণে বিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
খাগড়াছড়ি জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র শিকদার বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষকসংকটের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। শূন্য পদ পূরণের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
স্থানীয় অভিভাবকদের মতে, একটি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২১টি শিক্ষক পদের বিপরীতে মাত্র দুজন সহকারী শিক্ষক দিয়ে প্রায় ৪৮০ জন শিক্ষার্থীর পাঠদান কোনোভাবেই মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য যথেষ্ট নয়। দীর্ঘদিন এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তাই শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ বিবেচনায় নিয়ে দীঘিনালা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শূন্য শিক্ষক পদগুলো দ্রুত পূরণ, নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবকেরা।


