বান্দরবানের আলীকদমে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হলেও কমছে না হামের উপসর্গে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। শনিবার (০৯ মে) নতুন করে আরও ২০ জন রোগী আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে ৩১ শয্যার ওই হাসপাতালে হামের উপসর্গের ৭৩ জনসহ মোট ৮৫ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শনিবার ৪৩ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত মোট ২২০ জন রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১৪৭ জন। তবে এখন পর্যন্ত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কোনো রোগীর মৃত্যু হয়নি।
জেলার সিভিল সার্জন শাহীন হোসাইন চৌধুরী গত মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, চলতি বছরের ২০ এপ্রিল শুরু হওয়া টিকাদান কর্মসূচিতে বান্দরবানের সাত উপজেলায় ৯৭ দশমিক ৯৯ শতাংশ অর্জন হয়েছে।
তবে আলীকদম উপজেলার দুর্গম কুরুকপাতা ইউনিয়নে হামের উপসর্গের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। যোগাযোগব্যবস্থা অত্যন্ত দুর্বল হওয়ায় ম্রো পাড়াগুলোতে পৌঁছাতে সড়কপথ থেকে তিন থেকে সাত ঘণ্টা হাঁটতে হয়। এপ্রিলের শুরু থেকেই সেখানে সংক্রমণ বাড়তে থাকে। ১১ এপ্রিল রিংলতপাড়ায় দুই নবজাতকের মৃত্যু হয়। স্থানীয়দের দাবি, হামেই তাদের মৃত্যু হয়েছে, যদিও স্বাস্থ্য বিভাগ বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।
আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) মোহাম্মদ হানিফ জানান, কুরুকপাতা ইউনিয়নে শিশুদের টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮৩৮ জন, অথচ টিকা দেওয়া হয়েছে ৮৪৩ শিশুকে। এছাড়া হামের উপসর্গ দেখা দেওয়ায় ১৫ বছরের কম বয়সী আরও ৬২১ শিশু-কিশোরকে টিকা দেওয়া হয়েছে।
তবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি টিকাদান সম্পন্ন হলেও কেন সংক্রমণ কমছে না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি তিনি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগের সাবেক পরিচালক ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অংসুইপ্রু মারমা বলেন, বান্দরবানের দুর্গম এলাকায় বাস্তবে টিকাদান কর্মসূচির শতভাগ বাস্তবায়ন কঠিন। তার মতে, কাগজে-কলমে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ দেখানো হলেও বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। আর এ কারণেই কুরুকপাতার মতো দুর্গম এলাকায় হামের উপসর্গের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।

