খাগড়াছড়ি জেলাধীন মাটিরাঙ্গা উপজেলার পোড়াবাড়ি নামক এলাকায় ইউপিডিএফ মূল দল কর্তৃক স্থানীয় বেশ কয়েকজন বাঙালিকে পাহাড়ে কাজ করার সময় ধরে নিয়ে বেধরক মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২৫ জুন) বিকেলে যামিনীপাড়া ব্যাটালিয়ন (২৩ বিজিবি) এর অধিনস্থ তাইন্দং বিওপির আওতাধীন পোড়াবাড়ি নামক এলাকায় ইউপিডিএফ মূল দল কর্তৃক এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, স্থানীয় বাঙালিরা তাজু মেম্বারের বাগানে জঙ্গল পরিষ্কার করতে গেলে পাহাড়ের আঞ্চলিক দল ইউপিডিএফ, মো. আবু তাহের (৪৭), মো. মফিজ মিয়া (৪৫), মো. আইয়ুব আলী (৩২), মো. খলিলুর রহমান (৩৫), আব্দুল মান্নান (৪০) ও মোখলেছুর রহমানকে (৭০) ধরে নিয়ে যায়। পরে তাদের বেধড়ক মারধর করলে আবু তাহের গুরুতর আহত হয়। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আবু তাহের বর্তমানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।
ভুক্তভোগী দিনমুজুর আবু তাহের জানান, তিনিসহ ৬ জন দিনমুজুর তাজু মেম্বারের বাগানে জঙ্গল পরিষ্কার করছিলেন। এসময় ৬ জন অস্ত্রধারীসহ মোট ৭ জন উপজাতি সন্ত্রাসী অস্ত্রের মুখে হাত বেঁধে লাঠি দিয়ে এলোপাথাড়ি মারতে থাকে। এক পর্যায় হাতের বাঁধন খুলে গেলে পালাতে সক্ষম হন। তিনি বর্তমানে মাটিরাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
একই এলাকায় নিজ জমিতে কাজ করার সময় আরো একজন বাঙালিকে ধরে নিয়ে গিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ইউপিডিএফের বিরুদ্ধে।
অভিযোগের বিষয়ে ইউপিডিএফ’র জেলা সংগঠক অংগ্য মারামার সাথে একাধিক বার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করতে না পারায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এদিকে ফংবাড়ি ব্যাঙ্কারটিলায় এলাকায় বিজিবি ক্যাম্প স্থাপনের দাবি করে স্থানীয়রা জানান, ফংবাড়ি এলাকায় তাদের বাপ দাদার জায়গা জমি রয়েছে। রয়েছে নিজেদের ফসলি জমি। এ জমিতে প্রায় ৭ বছর যাবত স্থানীয়দের যেতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ইউপিডিএফ। কৃষি নির্ভর এই এলাকায় জীবিকা নির্বাহের বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে মৃত্যু ঝুঁকি নিয়ে যেতে হয় ফসলি জমিতে। এতো বছর অত্যাচার করলেও গত ২ বছর বেশি নির্যাতন করছে বাঙালিদের উপর। তাই ফংবাড়ি ব্যঙ্কারটিলায় এলাকায় বিজিবি ক্যাম্প স্থাপন করলে এলাকাবাসী নিরাপদে জীবন যাপন করতে পারবে বলে জানান স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ নেতাদের সাথে যোগাযোগ করলে তাঁরা ঘটনার নিন্দা জানান, এ ঘটনায় কোন কর্মসূচি নাগরিক পরিষদ করবে কিনা এমন প্রশ্নে বলেন কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে এখনো আলোচনা হয়নি।
সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে যামিনীপাড়া ব্যাটালিয়ন (২৩ বিজিবি) এর নাঃ সুবেঃ মোঃ সাফায়েতসহ ২০ জন রাইফেল ৯ টি, এসএমজি ০৯ টি, এলএমজি ০২ টি ও প্রাধিকার মেতাবেক গোলাবারুদ নিয়ে থ্রীটন ও পিকাপ যোগে তাইন্দং এলাকায় ১টি বি-টাইপ টহল গমন করে।
উল্লেখ্য, তাইন্দং বিওপি হতে একটি সি-টাইপ টহল উক্ত দলের সাথে যোগ দিবে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে বলে জানান যামিনীপাড়া জোন (২৩বিজিবি)।
পার্বত্য নাগরিক পরিষদের খাগড়াছড়ি জেলার সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার লোকমান হোসেন ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, পাহাড়ে এটা কোন নতুন ঘটনা নয়। প্রতিবছর চাষাবাদের সময় হয়, উপজাতি সন্ত্রাসীরা বেপরোয়া হয়ে উঠে। বাঙালিদের চাষাবাদে বাধা সৃষ্টি করে, যাতে বাঙালিরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে না পারে। ইউপিডিএফ তাদের অবস্থান থেকে সব সময় বাঙালিদেরকে নিজ ভূমিতে যেতে বাধা সৃষ্টি করছে। বিষয়টি ইতিমধ্যে প্রশাসনকে অবগত করা হয়েছে। প্রশাসন ব্যবস্থা না নিলে কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারি দেন তিনি।
তাইন্দং ইউপি চেয়ারম্যান পেয়ার আহাং মজুমদার জানান, ইউপিডিএফ’র এমন অত্যচার নতুন কোন ঘটনা নয়। এর আগেও ৭/৮ বার এমন ঘটনা ঘটেছে। ৯ নম্বর ওয়ার্ড মুসলিমপাড়াবাসী “ফংবাড়ি” এলাকায় তাদের নিজ জমিতে চাষাবাদ করতে পারেনা। এ এলাকা ইউপিডিএফ তাদের এলাকা বলে দাবি করে। তাইন্দংবাসী বিশেষ করে মুসলিমপাড়া এলাকার মানুষকে ওই এলাকায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ইউপিডিএফ। মুসলিমপাড়ার সাধারণ মানুষ তাদের ফসলি জমিতে কাজ করতে গেলেই তাদের মারধর করে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে যামিনীপাড়া জোন (২৩-বিজিবি) কমান্ডার লে. কর্নেল আলমগীর কবির, পিএসসি জানান, মঙ্গলবার বিকালে নিজেদের জমিতে কাজ করতে গেলে ইউপিডিএফ বাঙালিদের বেধড়ক মারধর করেছে। সংবাদ পেয়ে যামিনীপাড়া ব্যাটালিয়নের টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে বলে জানান তিনি।
-পার্বত্য সময়

