সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও দেশ ত্যাগের পর অরাজকতা পরিস্থিতিতে ৬ আগস্ট থেকে কর্মবিরতির ঘোষণা দেন ট্রাফিক পুলিশসহ বাংলাদেশ পুলিশ অধস্তন কর্মচারী সংগঠন। তার প্রায় এক সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর জেলার সাতটি থানার কার্যক্রম সোমবার থেকে শুরু হয়েছে। কর্মবিরতিতে থাকা পুলিশ সদস্যরা কাজে যোগ দেওয়ায় থানার কার্যক্রম শুরু হয়।
সকাল থেকে থানা, ফাঁড়ি ও পুলিশ লাইনসে যোগ দিতে শুরু করেন কনস্টেবল থেকে পরিদর্শক মর্যাদার পুলিশ সদস্যরা। ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা যোগ দেওয়ার পর সড়কে দায়িত্ব পালন করা শিক্ষার্থী ও আনসার সদস্যরা ফিরে গেছেন।
পুলিশ বাহিনীরা জানিয়েছেন, স্বৈরাচারী সরকার পদত্যাগের খবর পেয়ে পুলিশ সদস্যদের বিপদে ফেলে দালাল ও ভুয়া বিসিএস অফিসারগুলো পালিয়ে গেছেন। আর সব অপরাধের দায়ভার সাধারণ পুলিশ সদস্যদের উপর ছেড়ে দিয়ে গেছে। দেশের সব পুলিশ সদস্য এখন আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। কর্মস্থল যোগদান তো দূরের কথা ছাত্র-জনতার সাথে শত্রুতা কারণে পুলিশদের স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করার স্বাধীনতাও হারিয়ে গেছে। যার ফলে ১১ দফা দাবিতে কর্মবিরতি ঘোষণা করেন। পরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ১১ দফা দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেয়াই কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছেন। দেশের এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থানে থাকবে বলে আশ্বাস তাদের।
৫ আগস্ট থেকে জনশূন্য থাকা বান্দরবান সদর থানার প্রাঙ্গণে সকাল থেকেই ছিল মানুষের ভিড়। জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল জলিল বলেন, থানার সবাই কর্মস্থলে যোগ দিয়েছেন। প্রথম দিনে তিনটি সাধারণ ডায়েরি হয়েছে, কোনো মামলা হয়নি।
রুমা ও লামা থানার ওসি জানান, দুই থানায় এরই মধ্যে সব পুলিশ সদস্য কাজে যোগ দিয়েছেন। এখন আগের মতো সবকিছু স্বাভাবিকভাবে চলছে।
জেলা পুলিশ সুপার সৈকত শাহীন বলেন, জেলায় পুলিশের কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলছে। কিছু পুলিশ সদস্য ছুটিতে রয়েছেন। তাঁরা ১৫ আগস্টের মধ্যে যোগ দেবেন।

-পার্বত্য সময়