বান্দরবানের রুমা ও থানচিতে পাহাড়ে সশস্ত্র সংগঠন কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট-কেএনএফ কর্তৃক দুটি ব্যাংকে ডাকাতি ও অস্ত্র লুটের ঘটনায় কেএনএফ বর্জনের ঘোষণা দিয়ে সাধারণ বমদের স্বাভাবিক চলাফেরার দাবিতে মানববন্ধন করেছে বম জনগোষ্ঠীর সদস্যরা।
রবিবার (১৯ মে) বিকালে জেলা শহরে উজানি পাড়ারস্থ ইভেনজেলিক্যাল খ্রিষ্টিয়ান চার্চ-ইসিসি প্রাঙ্গণে সাধারণ বম জনগোষ্ঠীর ব্যানারে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা ব্যানারে কেএনএফ কর্তৃক ব্যাংক ডাকাতি ও অস্ত্র লুটের ঘটনার প্রতিবাদে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।
মানববন্ধন কর্মসূচিতে সরকারের প্রতি বিভিন্ন দাবি সম্বলিত প্ল্যাকার্ড এবং কেএনএফকে বর্জনের ঘোষণা দিয়ে বম সম্প্রদায়ের অর্ধ শতাধিক নারী-পুরুষ ও শিশু অংশ নেন।
মানববন্ধনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন ইয়াং বম অ্যাসোসিয়েশনের (ওয়াইবিএ) সদস্য লাল পেক থার বম। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আমরা নিরীহ বমরা রাজনীতির চালচলনের সঙ্গে পরিচিত না। বর্তমানে কেএনএফের সদস্যদের অপকর্মে সুশৃঙ্খল ও শান্তিপ্রিয় বম জনগোষ্ঠীর অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে। শত শত নারী-পুরুষ, বৃদ্ধ-শিশু প্রাণভয়ে বনে–জঙ্গলে পালিয়ে জীবনযাপন করছে, দেশান্তরী হয়েছে অনেকে।
এখন দেয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়ে স্পষ্ট কণ্ঠে বলতে চাই, কতিপয় পথভ্রষ্ট ও বিপথগামী কেএনএফের সদস্যের অপকর্মকে আমরা সমর্থন করি না এবং তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। আমরা সাধারণ জনগণ শান্তিতে থাকতে চাই। তাই কেএনএফ বা কেএনএ সংগঠনকে বর্জন ঘোষণা করছি।’ লিখিত বক্তব্যে কেএনএফের সবাইকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসারও আহ্বান জানানো হয়েছে।
বম জনগোষ্ঠীর সবাই কেএনএফের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয় উল্লেখ করে লাল পেক থার লিখিত বক্তব্যে বলেন, নিরপেক্ষ তদন্ত করে ব্যাংক ডাকাত ও অস্ত্র লুটকারী কেএনএফের সদস্যদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু একই সঙ্গে নিরীহ বমরা যাতে হয়রানির শিকার না হয়, সেদিকে নজর দিতে হবে।
মানববন্ধনে লালঅয় পার বম নামে এক শিক্ষার্থী লিখিত বক্তব্যে বলেন, বর্তমানে প্রাণের ভয়ে নারী-পুরুষ, বৃদ্ধ-শিশু জঙ্গলে অনাহারে অবর্ণনীয় কষ্টে দিনযাপন করছে। যা শিক্ষার্থীরা কখনো আশা করেনি। বম শিক্ষার্থীরাও স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে সুনাগরিক হিসেবে নিজেদের জীবন গড়ে তুলতে চাই। এই পরিণতির জন্য কেএনএফকে দায়ী করে তাদেরকে পথভ্রষ্ট ও বিপথগামী বলে উল্লেখ করা হয়।
লালঅয় পার বম বলেন, কেএনএফের এমন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে ছাত্র সমাজ গ্রহণ করে না। তাদের এই কর্মকাণ্ডকে তীব্র ঘৃণা ও প্রতিবাদ জানাই। সন্ত্রাসী, রাষ্ট্রবিরোধী ও ডাকাতগোষ্ঠী হিসেবে পরিচিত হতে চাই না। গোটা বম ছাত্র সমাজ কেএনএফকে বর্জন করেছে জানিয়ে কেএনএফের প্রতি ১০টি বার্তা দেন তিনি।
এছাড়া বম ছাত্র সমাজের পক্ষ থেকে সরকারে প্রতি চারটি দাবি তুলে ধরেন শিক্ষার্থী লালঅয় পার বম। সেগুলো হলো-
১. তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনা। নির্দোষ-নিরীহ আটককৃত শিক্ষার্থীদের মুক্তি দেওয়া।
২. দোষীদের দায় বম ছাত্র সমাজ নেবে না। প্রকৃত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া।
৩. নিরপেক্ষ ও সঠিক তদন্তের মাধ্যমে কেএনএফের উত্থান দেশবাসীর সামনে তুলে ধরা।
৪. বম সমাজকে স্বাভাবিক বেঁচে থাকার অধিকার দেওয়া।
নারীদের সংগঠন বম নুনাও ম্রুই (বিএনএম)–এর সভানেত্রী ঙুন চুয়ান বম আবেগঘন বক্তব্যে বলেছেন, ‘বমরা সবাই কেএনএফ—এ রকম ভুল দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। আমরা ব্যাংক ডাকাতি ও অস্ত্র লুট করিনি, করেছে কেএনএফের সন্ত্রাসীরা। খুব স্বাভাবিক বিষয়, ডাকাতদের গ্রেপ্তার করে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু কতিপয়ের অপরাধে অনেক শিক্ষার্থী এখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে পারছে না।’ কেএনএফের সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার ও সাধারণ বমদের স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুযোগ দেওয়ার জন্য তিনি আহ্বান জানান।
গত ২ ও ৩ এপ্রিল রুমা ও থানচিতে কেএনএফ ব্যাংক ডাকাতি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অস্ত্র লুট করে। ঘটনার পর থেকে সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, র্যাব ও আনসার বাহিনী কেএনএফ সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার ও অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান পরিচালনা করছে।
যৌথ বাহিনীর এই অভিযানে বিভিন্ন এলাকা থেকে এখন পর্যন্ত রুমা থানায় ৫টি ও থানচি থানায় ৪টি মামলায় ২৫ নারীসহ মোট ৮৬ জনকে গ্রেপ্তারের খবর জানিয়েছে পুলিশ।
-পার্বত্য সময়
বান্দরবানে মানববন্ধন : সাধারণ বমদের কেএনএফ বর্জনের ঘোষণা
এখন দেয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়ে স্পষ্ট কণ্ঠে বলতে চাই, কতিপয় পথভ্রষ্ট ও বিপথগামী কেএনএফের সদস্যের অপকর্মকে আমরা সমর্থন করি না এবং তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
সি
স্টাফ রিপোর্টার
২০ মে, ২০২৪ ৬:৫৫ পূর্বাহ্ন৩ মিনিট পড়া

কেএনএফকে বর্জনের ঘোষণা ও মানববন্ধন। ছবি: সংগৃহীত
