২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচন থেকে সবগুলো নির্বাচনে পার্বত্য সংসদীয় আসনগুলোতে (রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান) আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলগুলো অংশগ্রহণ করে। তবে এবার খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের দুই আসনে আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল থেকে কোনো প্রার্থী দেওয়া হয়নি। রাঙামাটি আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঊষাতন তালুকদার নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত জেএসএস সমর্থিত এই প্রার্থীও মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেওয়ায় পার্বত্য সংসদীয় আসনে আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলের কোনো প্রতিনিধি থাকল না।
শুক্রবার (১৫ ডিসেম্বর) রাঙামাটি জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন খানের কাছ থেকে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ঊষাতন তালুকদার। জেএসএস সমর্থিত এই হেভিওয়েট প্রার্থীর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের ফলে এ আসনে আর কোনো শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী থাকল না।
দীর্ঘ দুই যুগের বেশি সশস্ত্র সংগ্রামের পর ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি সইয়ের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সদস্যরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেন। চুক্তি পরবর্তী সময়ে ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চুক্তি অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রামের স্থায়ী বাসিন্দাদের নিয়ে পৃথক ভোটার তালিকা প্রণয়নসহ কয়েক দফা দাবিতে নির্বাচন বর্জন করেছিল সংগঠনটি।
পরবর্তীতে ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রথমবারের মতো জনসংহতি সমিতি থেকে সরাসরি নিজস্ব প্রার্থী দিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে জেএসএস সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন ঊষাতন তালুকদার। এবার দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন। তবে শেষপর্যন্ত তা প্রত্যাহার করে নিলেন।
পার্বত্য সময়

