খাগড়াছড়ির দীঘিনালা ও রাঙামাটির লংগদু উপজেলার বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমাতে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। চল্লিশ কিলোমিটারের ওই সড়কের চারটি পুরাতন বেইলি ব্রিজ ভেঙে স্থায়ীভাবে আরসিসি সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক এবিএম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার জানান, জেলার প্রায় সব বেইলি ব্রিজ ইতোমধ্যেই আরসিসি ব্রিজে রূপান্তর করা হয়েছে। অবশিষ্ট চারটি ব্রিজও স্থায়ীভাবে নির্মাণের জন্য সড়ক ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, আগামী জুনের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ এই চারটি ব্রিজের নির্মাণ কাজ শুরু হবে। এর ফলে দীঘিনালা ও লংগদুর বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘব হবে। লংগদু উপজেলা প্রশাসনিকভাবে রাঙামাটির অংশ হলেও ভৌগোলিকভাবে দীঘিনালার সঙ্গে সড়কপথে সংযুক্ত। ফলে এই সড়ক দিয়ে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম ও ঢাকা যাওয়ার জন্য মানুষকে দীঘিনালা অতিক্রম করতে হয়। বর্তমানে বোয়ালখালীছড়া, মেরুং বাজার-১ ও ২, এবং বেতছড়ি ব্রিজগুলো খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।
স্থানীয়রা জানান, এই সড়ক দিয়ে গবাদিপশু, তামাক, বনজ দ্রব্য, কাঠ, আনারস, আদা ও অন্যান্য কৃষিপণ্য আনা-নেয়া করা হয়। সড়কটি পাহাড়ি পথে সংক্ষিপ্ত ও চওড়া মাত্র ১২ ফুট হওয়ায় দুইটি যানবাহন মুখোমুখি হলে চলাচলে সময় লাগে বেশি। মাঝে মাঝে ব্রিজের পাটাতন নেমে যাওয়ার কারণে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
খাগড়াছড়ি সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাকসুদুর রহমান বলেন, চারটি সেতুই অনেক পুরোনো। সেতুগুলো স্থায়ীভাবে আরসিসি ব্রিজে রূপান্তর করা হবে। দরপত্র আহ্বান করা হলে আগামী জুনের মধ্যে নির্মাণ কাজ শুরু হবে। ইতোমধ্যেই জেলার ৪২টি বেইলি ব্রিজ আরসিসি ব্রিজে রূপান্তরিত হয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন সেতু নির্মাণের পর দুই উপজেলার বাসিন্দাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেক বেশি নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে।
সূত্র- বাসস

