গতকাল (সোমবার) আইএসপিআর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছিল বান্দরবানের রুমায় সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) দমনে সেনা অভিযান চলাকালে এক কেএনএফ সদস্য নিহত হয়েছে। আজ (মঙ্গলবার) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তাকে সাধারণ পাহাড়ী বাসিন্দা বলে উপস্থাপন করে কেএনএফ'র পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, নিরীহ মানুষকে হত্যা করে মৃতদেহকে কুকি-চিনের পোশাক পরিয়ে দেয়া হয়েছে। অনুসন্ধান ও নির্ভরযোগ্য সূত্রের দেওয়া তথ্য বলছে, ফেসবুকে প্রচারিত কুকি-চিনের এই বক্তব্য তাদের মিথ্যা ও অপপ্রচার।
সোমবার (২২ এপ্রিল) রুমা উপজেলার দুর্গম মুনলাই পাড়া এলাকায়  সেনাবাহিনীর অভিযানে এ ঘটনা ঘটে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এবং কেএনএফ, কোনো পক্ষ থেকেই নিহতের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। 
নিহতের পরিচয় সম্পর্কে জানতে চাইলে আইএসপিআরের সহকারী পরিচালক রাশেদুল বলেন, “এখন যেটুকু তথ্য পাওয়া গেছে সেটুকু দেওয়া হচ্ছে। বিস্তারিত তথ্য পেলে পরে দেওয়া হবে।”
খবর নিয়ে জানা গেছে, নিহত লাল রেম রোয়াত বম রেমাক্রি প্রাঙশা ইউনিয়নের সুনসাঙ পাড়ার বাসিন্দা লাল ঠুয়াই বমের ছেলে। সে মর্টার শেলের স্প্লিন্টার বিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শির দেয়া তথ্যমতে নিহতের শরীরে মর্টার শেলের একাধিক স্প্নিন্টার ঢুকার ক্ষত চিহ্ন দেখা গেছে। এছাড়া ওই সময় অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অন্যান্য সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছিল আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।
নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা গেছে, অভিযানের পর ওই এলাকা থেকে ১ টি পেনড্রাইভ, ১ টি জো ল্যান্ড এর বই , ম্যাপ এবং ১টি ইয়ং বোম অ্যাসোসিয়েশন বাৎসরিক রিপোর্ট উদ্ধার করেছে সেনা অভিযান দল। বেলা সাড়ে ৩টা নাগাদ মুনলাইপাড়া এলাকা তল্লাশীকালে লেকের পাশে কুকি-চিন আর্মির ইউনিফর্ম পরা ১ টি মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ নিয়ে যায়। 
এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে ১ টি গাদা বন্দুক, ৩০টি  কার্টিজ, ২ জোড়া জঙ্গলবুট,  ২টি ওয়াকি টকি চার্জার,  ১ জোড়া কেডস,  ১টি বাইবেল, হ্যান্ড গ্লাভস ১ জোড়া, কয়েক ডজন ফায়ার বক্স ও বিভিন্ন ধরনের ঔষধ পাওয়া যায়।
সূত্রের দাবি, নিহত লাল রেম রোয়াত বম মর্টার শেলের স্প্লিন্টার বিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছে বলে এটা নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, সে দুর্গম ওই জঙ্গলে অন্যান্য কেএনএফ সদস্যদের সাথেই অবস্থান করছিল এবং কেএনএফের সদস্য হিসেবে লড়াইরত ছিল। 
প্রসঙ্গত ২ এপ্রিল রুমা উপজেলার সোনালী ব্যাংকে ডাকাতি করে অর্থ লুট করে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী। পুলিশের ১০টি এবং আনসার সদস্যের চারটি অস্ত্রও লুট করে নিয়ে যায় তারা। অপহরণ করা হয় ব্যাংকটির ব্যবস্থাপক নেজাম উদ্দিনকে। দুদিন পর রুমার একটা পাহাড়ি এলাকা থেকে ছাড়া পান তিনি।
রুমার ঘটনার একদিন পর ৩ এপ্রিল থানচি উপজেলার সোনালী ও কৃষি ব্যাংকেও দিন-দুপুরে অর্থ লুটের ঘটনা ঘটে।
দুটি ঘটনায় পাহাড়ে সশস্ত্র সংগঠন কুকি চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট-কেএনএফ জড়িত বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এরপর থেকে লুট হওয়া অস্ত্র-অর্থ উদ্ধার, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে রুমা ও থানচিতে অভিযান চালাচ্ছে যৌথ বাহিনী। অভিযানে অংশ নিচ্ছেন সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‍্যাব ও পুলিশ সদস্যের যৌথ বাহিনী।
যৌথ বাহিনীর এই অভিযান সমন্বয় করছে সেনাবাহিনী।
যৌথ বাহিনীর এই অভিযানে বিভিন্ন এলাকা থেকে এখন পর্যন্ত ২১ নারীসহ ৭১ জনকে গ্রেপ্তারের খবর জানিয়েছে পুলিশ।
-পার্বত্য সময়