দীর্ঘ চার মাস পর রোববার (১ সেপ্টেম্বর) প্রথম কাপ্তাই হ্রদ থেকে মাছ আহরণ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও উপজাতি সন্ত্রাসীদের বিরাট অংকের চাঁদা দাবি ও হুমকির কারণে কাপ্তাই হ্রদ থেকে মাছ আহরণ বন্ধই রয়ে যায়।
ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, রাঙামাটিতে উপজাতি সন্ত্রাসীরা রোববার (১ সেপ্টেম্বর) কাপ্তাই হ্রদের মৎস্য ব্যবসায়ীদের কাছে দেড় কোটি টাকার বেশি চাঁদা দাবি করে। অন্যত্থায় জেলে ও ব্যবসায়ীদের হত্যা-জখমের হুমকি দেওয়া হয়। এতে আতংকে মাছ আহরণে নামতে পারেননি সাধারণ জেলে বা মৎসজীবীরা।
হুমকি দিয়ে প্রথম দিনই মাছ শিকার বন্ধ করে দিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) ও ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)।
রাঙামাটি বিএফডিসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিএফডিসি গত বছর ১৫ কোটি ৫৮ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় করে। চলতি বছর মাছ আহরণ মৌসুমে সাড়ে ১৬ কোটি টাকা রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। রাঙামাটি শহরের আশপাশের জেলেরা রোববার বিএফডিসি পল্টনে অল্প পরিমাণের কিছু মাছের যোগান আসে। অথচ আগের বছরের হিসেবে এই সময়ে পল্টনে অন্তত ১০০ মেট্রিক টন মাছ আহরণের সম্ভাবনা ছিলো। মাছের যোগান কম হওয়ায় চট্টগ্রাম থেকে ট্রাকে ট্রাকে আনা বরফও গলে যাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, মাছ শিকারে নামার আগেই জেএসএস ও ইউপিডিএফ এর সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা আলাদাভাবে রাঙামাটির মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতি ও কাপ্তাই হ্রদ বৃহত্তর মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির কাছে দেড় কোটি টাকার বেশি চাঁদা দাবি করে। চাঁদার টাকা না দিয়ে যেন কেউ হ্রদে মাছ শিকারে না নামে সে বিষয়েও সতর্ক করে হুমকি দেয়।
কাপ্তাই হ্রদ বৃহত্তর মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতি সভাপতি কবির আহমেদ বলেন, পাহাড়ি দুটি সংগঠনের সন্ত্রাসীরা পৃথকভাবে তাদের কাছে ৫০ লাখ করে ১ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেছে। এ নিয়ে মৎস ব্যবসায়ীরা আতংকে আছেন। পাশাপাশি মাছ শিকারও রোববার বন্ধ ছিল।
অপরদিকে রাঙামাটি মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সহ-সভাপতি জানান, পৃথক পৃথকভাবে সন্ত্রাসীরা ২৫ লাখ টাকা হারে মোট ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছে জেএসএস ও ইউপিডিএফ। চাঁদা না দিয়ে হ্রদে নামলে বিপদ হবে বলেও হুমকি দিয়েছে তারা। এ কারণে মাছে আড়ৎ বা বাজারগুলোতে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। কাপ্তাই হ্রদ নির্ভর রাঙামাটির মারিশ্যা ও কাপ্তাই জেটিঘাট ও খাগড়াছড়ির মহালছড়ির ব্যবসায়ী ও জেলেদের কাছেও চাঁদা দাবি করা হয়েছে। তবে চাঁদার টাকার পরিমাণ কতো তা জানা সম্ভব হয়নি। অপরদিকে ওই দুটি সংগঠনের নামে রোববার রাঙামাটির বন বিভাগের কর্মকর্তাদের কাছে ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করার পাওয়া যায়। চাঁদা দাবির ওই বিষয়গুলো রোববার রাঙামাটি শহরেও দিনভর আলোচনায় ছিল।
জানা যায়, ৭২৫ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তর কৃত্রিম জলাশয় ‘কাপ্তাই হ্রদ’। হ্রদ কেন্দ্রিক ব্যবসায়ী ও জেলেরা এখানকার জীবিকা উপর নির্ভরশীল।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, সন্ত্রাসীদের চাহিদা মতো চাঁদা পরিশোধ ছাড়া হ্রদ থেকে কোন জেলে মাছ ধরতে পারবে না। দাদনসহ বিভিন্ন খাতে ব্যবসায়ীরা টাকা বিনিয়োগ করে এখন সন্ত্রাসীদের কারণে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে তাতে বড় ধরণের বিপাকে পড়ছেন ব্যবসায়ী ও জেলেরা।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জেএসএস ও ইউপিডিএফের দায়িত্বশীল কোনো নেতার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কার্প জাতীয় মাছের প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য রাঙামাটি বিএফডিসি কাপ্তাই হ্রদে ৪ মাস ৫ দিন মাছ শিকার বন্ধ রাখা হয়। কাপ্তাই হ্রদে বর্তমান বিএফডিসি'র তালিকাভুক্ত ২৬ হাজার ৭৮৮ জন জেলেসহ প্রায় ৩৫ হাজার জেলে মাছ শিকারের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর ৩১ আগস্ট দিবাগত রাত ১২টার পর থেকে হ্রদে মাছ আহরণে যাচ্ছিলেন জেলেরা। কিন্তু কাপ্তাই হ্রদে নামতে গিয়েই চাঁদাবাজদের বাঁধার মুখে ফিরে যান তারা।
-পার্বত্য সময়

