প্রথম এবং দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে নিজেদের ‘আদিবাসী’ দাবি করে ৫% কোটা পুনর্বহালের দাবিসহ তিন দফা দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে ‘আদিবাসী কোটা সংরক্ষণ পরিষদ’ এর ব্যানারে উপজাতি শিক্ষার্থীদের একাংশ। যদিও এ কোটা নিয়ে ভিন্নমত আছে বিজ্ঞ জনদের।
রোববার (১৪ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ওই সংগঠনের আহ্বায়ক পরিচয় দিয়ে অলিক মৃ নামের এক শিক্ষার্থী লিখিত বক্তব্যে ৫% কোটা পুনর্বহাল-সহ আরও কিছু দাবি তুলে ধরেন। তবে অনগ্রসর বিবেচনায় উপজাতিদের জন্য বরাদ্দকৃত ৫ শতাংশ কোটার সংস্কার চান বিশিষ্টজনরা। তারা মনে করেন, কেবল উপজাতিদের কোটা সিস্টেম বহাল থাকলে পার্বত্য চট্টগ্রামের বসবাসকারী বাঙ্গালিরা রাষ্ট্রের দ্বারা বৈষম্যের শিকার হবে। 
ঢাকার একটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সাঈদ মাহাদী বলেন, শুধু উপজাতিদের জন্য কোটা কেন? পার্বত্য অঞ্চলের সবার জন্য অর্থাৎ উপজাতি- বাঙালি সবার জন্য এ কোটা প্রয়োজন। দুর্গম অঞ্চলে বসবাস করার কারণে উপজাতি- বাঙালি সবাই আধুনিক নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। আর্থিক ও অন্যান্য দিক বিবেচনায় উপজাতি ও বাঙালি দুই গোষ্ঠীই অনগ্রসর হিসেবে বিবেচিত হয়।
একই সুরে কথা বলেছেন গবেষক মাঈনুল ইসলাম। তিনিও মনে করেন, শুধু উপজাতিদের জন্য কোটা বহাল থাকলে পাহাড়ে বাঙালিরা সরকারি বৈষম্যের শিকার হবে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এটি সংস্কার প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রকাশিত তথ্য বলছে মোবাইল ও ইন্টারনেটের ব্যবহারের ক্ষেত্রে জাতীয় পর্যায়ের চেয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম এগিয়ে আছে, ৯০ শতাংশের উপরে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এসেছে। শিক্ষার হারও লক্ষ্যণীয় মাত্রায় বেড়েছে। সেখানে কোটা পদ্ধতি বহাল রাখা গুরুত্ব কতটুকু সেটাই প্রশ্ন। আর যদি রাখতেই হয়, একই সুবিধা-অসুবিধার মধ্যে বসবাস করে ওই অঞ্চলের বাঙালিরা কেন বঞ্চিত হবে?
যদিও অলিক মৃ তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘আদিবাসীরা’ এখনও নাগরিক হিসেবে যথাযথ সুযোগ সুবিধা পায় না। অনগ্রসর জাতি হিসেবে কাদের বুঝানো হবে সেটি নিয়ে অস্পষ্টতা রয়ে গেছে। কোটা বাতিল হওয়ার পরও সমপর্যায়ে না আসা পর্যন্ত ‘আদিবাসীদের’ জন্য সরকারি চাকরিতে বিশেষ ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছিল। তার ফলাফল আমরা এখনও পাইনি।
অলিক মৃ বলেন, বর্তমান সরকারের স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের মাধ্যমে দারিদ্র্য ও অসমতা রাষ্ট্রে প্রান্তিক ও অনগ্রসরগোষ্ঠীর জীবনমানের উন্নত পরিকল্পনায় যদি আদিবাসীদের জন্য ৫% কোটা না রাখা হয় তাহলে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন সম্ভব হবে না। ‘আদিবাসীরা’ আরও পিছিয়ে যাবে। এতে অসমতা তৈরি হবে।
৫ শতাংশ কোটা বহাল রাখার যৌক্তিক বিবেচনায় সরকারের নিকট ৩ দফা দাবি পেশ করেন অলিক মৃ। তাদের দাবি,
১) প্রথম এবং দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে আদিবাসীদের ৫ শতাংশ কোটা পুনর্বহাল করতে হবে।
২) পুনর্বহালকৃত ৫ শতাংশ কোটা পরিপূর্ণ বাস্তবায়নের জন্য আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে অনগ্রসর ও অধিকতর অনগ্রসর জাতিসমূহকে চিহ্নিত করতে হবে। এবং ৫ শতাংশ কোটা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এ সুবিধার আওতায় নিয়ে আসতে হবে।
৩) আদিবাসী এলাকায় মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত ও শিক্ষা অবকাঠামো নির্মাণ এবং শিক্ষক সংকট নির্মূল করতে হবে।
এ সময় ৩ দফা দাবি পেশ করে আগামী ১৬ জুলাই বিকেল ৪টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে সমাবেশ ও মিছিল করা হবে বলেও জানান অলিক মৃ।

-পার্বত্য সময়