খাগড়াছড়িতে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। চলতি সেপ্টেম্বর মাসেই জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন প্রায় শতাধিক। এর আগে, আগস্টে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৮১ জন। ফলে মাসের বাকি দিনগুলোতে আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এ পর্যন্ত খাগড়াছড়িতে ২১০ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে পাঁচজন এবং দীঘিনালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যে আরও জানা গেছে, ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জেলায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। তিনি খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার ভাইবোনছড়া এলাকার অনন্ত ত্রিপুরা (৪৫)। হৃদ্রোগের চিকিৎসার জন্য ঢাকা ও চট্টগ্রামে যাওয়ার পর তিনি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।
গত ১২ সেপ্টেম্বর অনন্ত ত্রিপুরাকে খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৬ সেপ্টেম্বর তার মৃত্যু হয়।
খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. রিপল বাপ্পি চাকমা বলেন, অনন্ত ত্রিপুরা আগে থেকেই হৃদ্রোগে ভুগছিলেন। হার্টের বাল্বের সমস্যার চিকিৎসার জন্য ঢাকায় গিয়ে তিনি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন। পরে খাগড়াছড়িতে এসে চিকিৎসা নেন।
তিনি বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের একটি বড় অংশ মাটিরাঙ্গা উপজেলা থেকে চিকিৎসা নিতে আসছেন। আবার অনেকে জেলার বাইরে অবস্থানকালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে পরে খাগড়াছড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
এদিকে চলতি মাসে রোগীর সংখ্যা বাড়লেও পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছেন খাগড়াছড়ির ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. রতন খীসা। তিনি বলেন, ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট, প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র ও স্যালাইন পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। জ্বর বা ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে গিয়ে পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের কয়েকজন জেলার বাইরে অবস্থানকালে জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন।
পানছড়ির লোগাং এলাকার কাজী মো. নাসির উদ্দীন রাঙামাটিতে চাকরি করেন। জ্বর হওয়ার পর বাড়িতে ফিরে রক্ত পরীক্ষা করালে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। পরে বৃহস্পতিবার তিনি খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে ভর্তি হন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১৬ বছর বয়সী ফয়সাল ঢাকায় চাকরি করেন। তার মা জানান, রোববার তার জ্বর আসে। জ্বরের তীব্রতা ১০৩ ডিগ্রি ফারেনহাইটের বেশি ছিল। পরে রাতের গাড়িতে তাঁকে বাড়িতে আনা হয়। সোমবার মাটিরাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে পরীক্ষায় ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। পরে তাঁকে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, জ্বর, মাথাব্যথা, শরীরব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, বমি কিংবা অতিরিক্ত দুর্বলতার মতো উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত ডেঙ্গু পরীক্ষা করানো জরুরি। পাশাপাশি বাড়ির আশপাশে জমে থাকা পানি অপসারণ এবং এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।


