বান্দরবানের রুমায় প্রশাসন ভবনে হামলা ও ব্যাংক লুটের ঘটনার পর অপহৃত ব্যাংক কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিনকে দুই দিনেও উদ্ধার করা যায়নি। তিনি জীবিত নাকি মৃত—জানে না পরিবার। তাঁকে জীবিত ফেরত চান স্বজনেরা। তবে পুলিশ প্রশাসন বলছে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

বুধবার (৩ এপ্রিল) সকালে রুমা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহজাহান জানান, তারা উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছেন। তবে এখনো অপহৃত ব্যাংক ম্যানেজারকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৮টার দিকে রুমা উপজেলার সোনালী ব্যাংকের শাখায় হামলা চালায় সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। ব্যাংকের ভল্টে রক্ষিত ১ কোটি ৫৯ লাখ টাকা ডাকাতির চেষ্টা করা হয়। কিন্তু ব্যর্থ হয়ে পরে ব্যাংক ম্যানেজার নিজাম উদ্দিনকে অপহরণ করে নিয়ে যায় অস্ত্রধারীরা। স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ প্রশাসন বলছে নতুন সশস্ত্র গোষ্ঠী কুকি চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) জড়িত এই অপহরণে। অস্ত্রধারীদের পোশাকেও কে এন এফ লেখা ছিল।

সেখানকার দায়িত্বপ্রাপ্ত এসি (ল্যান্ড) দিদারুল আলম বলেন, গত রাত সাড়ে ৮টার দিকে ৭০-৮০ জনের একদল দুবৃর্ত্ত উপজেলা কমপ্লেক্সের বাউন্ডারির ভেতর মসজিদে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেয়। তখন তারাবি নামাজের জন্য অনেক কর্মকর্তা সেখানে ছিলেন। শুরুতেই নামাজি সবাইকে বন্দি করে সন্ত্রাসীরা প্রচণ্ড মারধর করে। সঙ্গে থাকা টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।

এদিকে দুই দিনেও স্বামী নিজাম উদ্দিনের হদিস না মেলায় চরম আতঙ্কে দিন কাটছে তাঁর স্বজনদের। নিজাম উদ্দিনের স্ত্রী কলেজশিক্ষক মাইসুরা ইসফাত মুঠোফোনে বলেন, ‘স্বামীর খোঁজ না পেয়ে একমাত্র সন্তানকে নিয়ে চরম আতঙ্কে দিন কাটছে। তিনি জীবিত না মৃত, তা–ও জানি না। প্রশাসনের কেউ স্বামীর খোঁজ দিতে পারছে না। তাকে অক্ষত ফেরত চাই।’

নিজাম উদ্দিন বান্দরবান রুমা উপজেলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য খুব উপভোগ করতেন বলে জানান স্ত্রী মাইসুরা ইসফাত। তিনি বলেন, ‘রুমায় এত ঘটনা ঘটলেও কখনো কল্পনা করিনি আমার স্বামীকে কেউ অপহরণ করবে।

নিজামকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে বলে জানান বান্দরবান জেলা পুলিশ সুপার সৈকত শাহীন। তিনি বলেন ‘আমাদের পক্ষ থেকে যা যা করার, সব করা হচ্ছে।’

 

পার্বত্য সময়