বান্দরবানের রুমায় সোনালী ব্যাংকে ডাকাতি করে ভল্ট থেকে ১ কোটি ৫৯ লাখ টাকা লুট করেছে সন্ত্রাসীরা। এ সময় ব্যাংকের ম্যানেজার নিজাম উদ্দিনকে অপহরণসহ নিরাপত্তায় থাকা ১০ পুলিশ সদস্য ও ৪ আনসার সদস্যের অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে যায় তারা। বিভিন্ন গণমাধ্যমের সূত্রে দাবি, এ ঘটনার মূল চক্রী কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ)।

মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছেন রুমা উপজেলার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (সহকারী কমিশনার ভূমি) মো. দিদারুল আলম।

দিদারুল আলম জানান, মঙ্গলবার রাত ৯ টার দিকে, কেএনএফ'র ৭০ থেকে ৮০ জনের একটি সশস্ত্র দল রুমা সোনালী ব্যাংকে হানা দেয়। এ সময় অস্ত্রের মুখে ব্যাংকের নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশ ও আনসার সদস্যদের জিম্মি করে তাদের ১০টি অস্ত্র ছিনিয়ে নেয়। এসময় পাশের ইউএনও অফিসের নিরাপত্তা কর্মীরা এগিয়ে আসলে তাদেরকেও আটক করে চারটি অস্ত্রও নিয়ে নেয়। পরে ব্যাংকের সামনের মসজিদ থেকে ব্যাংক ম্যানেজার নিজাম উদ্দীনকে আটক করে তার কাছ থেকে ভল্টের চাবি নিয়ে টাকা লুট করে এবং নিজাম উদ্দীনকে ধরে নিয়ে যায়।

May be an image of phone, screen, display case, capacitor, battery and text
হামলায় তছনছ ক্যাশ কাউন্টার 

তিনি আরও জানান, ছিনিয়ে নেয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে পুলিশের আটটি চাইনিজ রাইফেল, দুটি এসএমজি, আনসারদের চারটি শট গান, এসএমজির ৬০ রাউন্ড, চাইনিজ রাইফেলের ৩২০ রাউন্ড এবং শর্টগানের ৩৫ রাউন্ড গুলি। এরই মধ্যে গোটা এলাকা ঘিরে অভিযান শুরু করে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ।

ওই সময় ব্যাংকের লাগোয়া অফিসার কোয়ার্টারে অবস্থান করা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও বেশ কয়েকজন কর্মচারীকেও মারধর করে সন্ত্রাসীরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ব্যাংকে টাকাগুলো মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) বান্দরবান সদর থেকে রুমা সোনালী ব্যাংকে পাঠানো হয়। তাদের অনেকের দাবি, উপজেলার সরকারি সকল বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-বোনাসের টাকা ভল্টে ছিল।

No photo description available.
ভেঙে ফেলা কম্পিউটার 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধি বলেন, বিদ্যুৎ না থাকার সুযোগটি কাজে লাগিয়ে তাণ্ডব চালিয়েছে সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী। অন্তত একশ জনের মতো সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা রুমা উপজেলা পরিষদসহ আশপাশের এলাকাগুলো ঘেরাও করে লুটপাট চালিয়েছে। রুমা উপজেলাজুড়ে এখন থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। তাণ্ডব লুটপাটের সঙ্গে পাহাড়ের সশস্ত্র সংগঠন কেএনএফ জড়িত।

রুমার ইউপি চেয়ারম্যান উহ্লামং মারমা বলেন, ডাকাত দল সোনালী ব্যাংক লুট করেছে বলে শুনেছি। পুলিশ আনসারের অস্ত্রও লুট করেছে। রুমায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।


-পার্বত্য সময়