সম্প্রতি বান্দরবানের দুই ব্যাংকের তিন শাখায় দুই দিন ধরে কেএনএফের ডাকাতির ঘটনা সবাইকে বিস্মিত করেছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে গত শতকের মাঝামাঝি থেকে নানা সহিংসতার ঘটনা ঘটলেও কোথাও দিনদুপুরে প্রকাশ্যে ব্যাংক ডাকাতির কোনো নজির নেই। কিন্তু ঠিক একই ঘটনা ঘটেছিল মিজোরামে ১৯৭১ সালে। আর এ ডাকাতির সাথে জড়িত কুকিদের সমগোত্রীয় এক সশস্ত্র বাহিনী। এই সশস্ত্র বাহিনীর নাম মিজো ন্যাশনাল ফ্রন্ট (এমএনএফ)।
পার্বত্য চট্টগ্রাম লাগোয়া ভারতের উত্তর–পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি রাজ্যে গত শতকের ১৯৫০–এর দশক থেকেই বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা শুরু হয়। এসব গোষ্ঠীর সদস্যরা তৎকালীন পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠীর সহায়তা পেতেন। এ গোষ্ঠীগুলোর অন্যতম মিজোরামের মিজো ন্যাশনাল ফ্রন্ট (এমএনএফ)।
১৯৬৫ সালের ৩০ অক্টোবর এমএনএফ প্রেসিডেন্ট লালডেঙ্গা লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর কাছে স্বাধীন মিজোরাম রাষ্ট্র গঠনের আবদার করেছিলেন। এজন্য লাল বাহাদুর শাস্ত্রী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার জন্য সময় চেয়েছিলেন। এই কথায় আশ্বস্ত না হয়ে তিনি পাকিস্তানের যোগসাজশে গেরিলা দল গঠন করেন। পাকিস্তানের পার্বত্য চট্টগ্রাম সীমান্তে মিজোদের ঘাঁটি গড়ে তোলেন। চীন তখন তাদের প্রশিক্ষণের জন্য ইনস্ট্রাক্টর নিয়োগ করেছিল। লালডেঙ্গা তার সহকারীরা ১৯৭১ সালে দিনে-দুপুরে মিজোরামের রাজধানী আইজলের ব্যাংক লুট করেন। ব্যাংক ডাকাতি করে তারা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে এসে চট্টগ্রামে আশ্রয় নেয়।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রায় পুরোটা সময় বর্তমান রাঙামাটির জেলা পুলিশ সুপারের বাসভবনের কাছে (তৎকালীন সড়ক ও জনপথ বিভাগের ডাকবাংলো) সপরিবার ছিলেন লালডেঙ্গা। লালডেঙ্গার বাহিনী পাকিস্তানি বাহিনীকে সহায়তা করত। শুধু তাই নয়, মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র অবস্থান ছিল তাদের।
১৯৭১–এর ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হলে দ্রুততার সঙ্গে লালদেঙ্গা তার বাহিনীসমেত রাঙামাটি থেকে চলে যান মিয়ানমারে।
-পার্বত্য সময়