পার্বত্য এলাকার সশস্ত্র আঞ্চলিক সংগঠন কুকি চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠা কমিটির দ্বিতীয় দফার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে সাতটি বিষয়ে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৫ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টায় রুমা উপজেলার বেথেল পাড়ার কমিউনিটি সেন্টারে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বেথেল পাড়া কমিউনিটি সেন্টারে কেক কেটে এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যে বৈঠকের সূচনা হয়।
বৈঠকে শান্তি প্রতিষ্ঠা কমিটির চেয়ারম্যান ক্য শৈ হ্লার নেতৃত্বে ১৩ জন সদস্য এবং কেএনএফ-এর আটজন সদস্য অংশ নেন। বৈঠকে জেলা প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
দুই পক্ষের মধ্যে এর আগে একাধিক বার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠক হয়। গত ৫ নভেম্বর প্রথম স্বশরীরে বৈঠক হলেও দীর্ঘ চার মাস পর এটা দ্বিতীয় বৈঠক।
কেএনএফ-এর মুখপাত্র সংপা বম বলেন, আশা করি শান্তি ফিরিয়ে আসবে। কেননা প্রথম বৈঠকে আমরা যে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা ও স্বাক্ষর করেছিলাম কিন্তু বাস্তবায়ন হয়নি এবারের বৈঠকে সে বিষয়গুলো সামনে নিয়ে এসে সাতটি বিষয়ে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ধাপে ধাপে অন্যান্য বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে। আগামী ২-৩টি বৈঠকের পর শান্তি আলোচনার চূড়ান্ত ফলাফল পাওয়া যাবে।
তিনি আরও বলেন, আশা করি বিষয়গুলো নিয়ে ওনারা শিগগির কাজ করবেন এবং একটি সুফল বয়ে আনবেন।
বৈঠক শেষে পার্বত্য জেলা পরিষদ ও শান্তি প্রতিষ্ঠা কমিটির চেয়ারম্যান ক্য শৈ হ্লার সাংবাদিকদের জানান, এবারের বৈঠকে পুরাতন এবং নতুন মিলে সাতটি বিষয়ে সমঝোতা স্মারকে উভয়পক্ষ স্বাক্ষর করেছে এবং আগামী এপ্রিল মাসে তৃতীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
বৈঠকে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শান্তি কমিটির মুখপাত্র কাঞ্চন জয় তঞ্চঙ্গ্যা, ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এস এম মঞ্জুরুল হক, অতিরিক্ত পলিশ সুপার আব্দুল করিম।
অন্যদিকে, কেএনএফ’স রিপ্রেজেন্টেটিভ ফর পিস ডায়ালগের সেন্ট্রাল কমিটি ও টিম লিডার লালজংময়, সাংগঠনিক সম্পাদক লালসাংলম প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা লালএংলিয়ানসহ আটজন সদস্য অংশ নেন।
বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন কেএনএফ’র বিপথগামী সদস্যদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে পাহাড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ক্য শৈ হ্লার নেতৃত্বে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নেতাদের নিয়ে ২০২৩ সালের জুন মাসে ১৮ সদস্য বিশিষ্ট শান্তি প্রতিষ্ঠা কমিটি গঠন করা হয়। এরপর পর থেকে সংগঠনটির নেতাদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে আসছে এই শান্তি কমিটি।
-পার্বত্য সময়

