বান্দরবানে হাঁস চুরির অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অভিযুক্ত শহীদুল ইসলাম স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত বলে জানা গেছে।
রোববার (২৬ অক্টোবর) সকালে বান্দরবান সদর উপজেলার গোয়ালিয়াখোলা রোয়াজুপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্থানীয় বাসিন্দাদের তিনটি হাঁস চুরির অভিযোগে রেইছা সদর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শহীদুল ইসলাম ফোন করে মামলা-মোকদ্দমার কথা বলে তাজউদ্দিন (২০) ও উহ্লা মং (৪৩) নামে দুই ব্যক্তিকে ডেকে নেন রোয়াজুপাড়া এলাকায় সিনুমং মারমার দোকানে।
অভিযোগ অস্বীকার করলে ইউপি সদস্য ও তার সহযোগীরা প্লাস ও লাঠি দিয়ে দুজনকে মারধর করেন। ভিডিও ফুটেজে প্লাস দিয়ে একজনের হাতের নখ টেনে তোলার চেষ্টার দৃশ্যও দেখা যায়। পরে পুলিশকে খবর দিয়ে ভুক্তভোগীদের চুরির অভিযোগে পুলিশে সোপর্দ করা হয় এবং আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
নির্যাতনের শিকার তাজউদ্দিনের বাবা মোহাম্মদ হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তিনটা হাঁস চুরির অভিযোগে আমার ছেলেকে যে নির্যাতন করা হয়েছে, তা কোনোভাবেই মানবিক নয়। অন্য ওয়ার্ডের মেম্বার এসে কেন এভাবে বিচার করবেন? আমি এর সুবিচার চাই।
এ বিষয়ে ইউপি সদস্য শহীদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ভয়ভীতি দেখিয়ে কথা বের করার চেষ্টা করা হয়েছিল। নখ তোলার কোনো ঘটনা ঘটেনি। প্লাস হাতে নেওয়া আমার ভুল হয়েছে- এটা স্বীকার করছি।
বান্দরবান সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ পারভেজ জানান, স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যমতে অভিযুক্ত তাজউদ্দিনের বিরুদ্ধে মাদকসহ আরও কয়েকটি মামলা রয়েছে। চুরির ঘটনায় মালামালসহ দুজনকে পুলিশে হস্তান্তর করা হয়েছে। তদন্তে গ্যাস সিলিন্ডার ও নেবুলাইজার মেশিন উদ্ধার হলেও নগদ ১২ হাজার টাকা এখনও উদ্ধার হয়নি।

