বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সদর ইউনিয়নের আশারতলীর জাংছড়ি সীমান্তে বাংলাদেশ-মিয়ানমার শূন্য রেখার পাশে সে দেশের অভ্যন্তরে মিয়ানমার বাহিনীর পুঁতে রাখা স্থল মাইন বিস্ফোরণে মোহাম্মদ ইব্রাহিম (৪৩) নামে এক বাংলাদেশি আহত হয়েছেন।
শনিবার (২ মার্চ) বিকেলে এ ঘটনা ঘটলেও রোববার (৩ মার্চ) তা জানা যায়। আহত মোহাম্মদ ইব্রাহিমকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তাঁর স্ত্রী ও ইউপি সদস্য লায়লা বেগম।
মুঠোফোনে লায়লা বেগম জানান, নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আশারতলী গ্রামের বাসিন্দা ইব্রাহিম বিকেলে গরু চরাতে সীমান্তের শূন্যরেখায় যান। সেখানে মাইন বিস্ফোরণে আহত হন তিনি। বিস্ফোরণের শব্দ শুনে গ্রামের লোকজন গিয়ে খোঁজাখুঁজি করে তাঁকে খুঁজে পান। দ্রুত উদ্ধার করে তাঁরা প্রথমে তাঁকে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে চিকিৎসকেরা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দিয়েছেন।
তিনি আরো জানান, মাইন বিস্ফোরণে তাঁর স্বামীর পা থেকে স্প্লিন্টার বের করে ব্যান্ডেজ দেওয়া হয়েছে। তাঁর মুখে ও ঊরুতে মাইনের আঘাত লেগেছে। সব মিলিয়ে তিনি দাঁড়াতে পারছেন না এখনো।
নাইক্ষ্যংছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আবছার জানিয়েছেন, সদর ইউনিয়নের আশারতলী, জারুলিয়াছড়ি, ফুলতলী সীমান্তের শূন্যরেখায় আগেও কয়েকবার মাইন বিস্ফোরণ হয়েছে। বেশ কিছু মানুষ হতাহত হয়েছেন। এখন ওই এলাকায় মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) উপস্থিতি নেই। সীমান্তচৌকিগুলো বিদ্রোহী আরকান আর্মি দখল করেছে। ইউপি সদস্য লায়লা বেগমের স্বামী ইব্রাহিম শূন্যরেখায় গরু চরাতে গিয়ে মাইন বিস্ফোরণে আহত হন।
নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল মান্নান বলেছেন, সীমান্তের শূন্যরেখায় মাইন বিস্ফোরণে কেউ আহত হওয়ার ব্যাপারে থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়নি। তাই বিষয়টি তাঁর জানা নেই।
উল্লেখ্য, মিয়ানমারের রাখাইনে সংঘাত-সহিংসতা শুরু হয় ২০২১ সালে। ২০২০ সালে সে দেশের নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে ২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি গণতান্ত্রিক সরকারকে হটিয়ে জাতীয় ক্ষমতা দখল করে সামরিক বাহিনী। সেনাপ্রধান জেনারেল মিন অং হ্লাইং এ অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেন। ২০২২ সালের দিকে গণতন্ত্রপন্থীদের একাংশ জান্তাবিরোধী বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোতে যোগ দেওয়া শুরু করে। ২০২৩ সালের অক্টোবরের শেষে দিকে বিদ্রোহী ৩টি গোষ্ঠী মিলে থ্রি ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্স গঠন করে জান্তার বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। যার অন্যতম একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী আরকান আর্মি। যারা বর্তমানে বাংলাদেশ-সীমান্তবর্তী ২৫ টির অধিক চৌকি দখলে নেয় জান্তার কাছ থেকে। এখন সীমান্তে অদূরে যুদ্ধে লিপ্ত জান্তার বিরুদ্ধে।
পার্বত্য সময়/আরআই

