মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সামরিক জান্তা বাহিনীর সাথে বিদ্রোহী গ্রুপের মধ্যে তুমুল লড়াই চলছে। এরইমধ্যে দেশটির অভ্যন্তর থেকে ছোড়া গুলির শিষা ও রকেট লঞ্চার বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম-তুমব্রু সীমান্তে উড়ে এসে পড়ছে। এ সময় দুই বাংলাদেশি আহত হয়েছেন। রোববার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে এ ঘটনা ঘটেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার বিকেল থেকে থেমে থেমে গোলাগুলি হচ্ছিল। আজ আবার ভোর থেকে লাগাতার গোলাগুলি, মার্টার শেল নিক্ষেপ ও রকেট লান্সার বিস্ফোরণের বিকট শব্দে কেঁপে উঠছে সীমান্তবর্তী নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম-তুমব্রুর বিস্তীর্ণ এলাকা।
এর আগে শনিবার (৩ জানুয়ারি) রাতে একটি মর্টার শেল তুমব্রু কোনারপাড়ার ইলিয়াস হোসেনের বসতঘরের টিনে পড়েছে। তবে কেউ হতাহত হয়নি।
গত কয়েক দিন ধরে মিয়ানমারের ভেতরে সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে দেশটির সেনাবাহিনীর সংঘাত চলছে। এতে ব্যবহার করা হচ্ছে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক। এসব গোলাবারুদ আর বিস্ফোরকের বিকট শব্দে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুমের সীমান্ত এলাকা এখন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
কখনো গুলির খোসা আবার কখনো মর্টার শেলের খোসা এসে পড়ছে শূন্যরেখার ওপর। এতে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী তুমব্রু, বাইশফাড়ি, ভাজাবনিয়া সীমান্ত পয়েন্টে এখন চরম আতঙ্কে দিন কাটাতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। এরই মধ্যে দুটি বাড়ি থেকে লোকজন পালিয়ে গেছে এবং একটি বসতবাড়ির ওপর মর্টার শেলের অংশ পড়েছে বলেও খবর পাওয়া গেছে।
নিরাপত্তাহীনতার কারণে নিজেদের চাষাবাদের জমিতে যেতে পারছেন না অনেক কৃষক। আবার উৎপাদিত ফসল জমি থেকে তুলতে না পারায় ক্ষেতেই চাষাবাদ করা বিভিন্ন ধরনের ফল-ফলাদি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজ বলেন, মিয়ানমারে এখনো প্রচণ্ড গোলাগুলির শব্দ পাচ্ছি আমরা। এবার গোলাগুলির শব্দের তীব্রতা বেশি হওয়ায় সীমান্তবর্তী বাংলাদেশের মানুষকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
৩৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গাদের সম্ভাব্য অনুপ্রবেশ ঘিরে সতর্ক অবস্থানে আছে বিজিবি। সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। একজন রোহিঙ্গাকেও আর প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।
এ বিষয়ে ঘুমধুম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজ বলেন, ভোর থেকে মিয়ানমার সীমান্তের অভ্যন্তরে ব্যাপক গোলাগুলি হচ্ছে। এতে বিকট শব্দে কেপে উঠছে, ঘুমধুম-তুমব্রু সীমান্তবর্তী এলাকা। এলাকাবাসীদেরকে বিনা প্রয়োজনে ঘর থেকে বের না হওয়ার জন্য বলা হয়েছে ।
-পার্বত্য সময়

